এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের লোকাল স্টাফদের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন মসজিদ কমিটির সভাপতি। তাঁর অভিযোগ মসজিদ ভবনে গ্যাস লিকেজ হচ্ছিল। তিতাসের স্থানীয় আধিকারিকদের জানালে, ৫০ হাজার টাকা ঘুষ চায়।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল হামিদ জানান, এই ঘটনায় তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের গাফিলতি থাকলে, কড়া পদক্ষেপ করা হবে। পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গড়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
শুক্রবার রাতে মসজিদে বিস্ফোরণের পর পঞ্চাশেরও বেশি অগ্নিদগ্ধকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছিল। শনিবার সকাল ৯টার মধ্যেই ১১ জন মারা যান। বেলা গড়ানোর সঙ্গে ধাপে ধাপে মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকে। দুপুরের মধ্যেই মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ হয়। বিকেলের মধ্যে মৃত্যু বেড়ে হয় ১৭। রাত ১১টার মধ্যে এই সংখ্যাটা ২১-এ পৌঁছে যায়।
সরকারি সূত্রে খবর, শনিবার সন্ধের মধ্যেই ১৬ জনের মৃতদেহ তাঁদের স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সন্ধের পর যাঁরা মারা গিয়েছেন, রবিবার তাঁদের মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। মৃতদের মধ্যে জুয়েল নামে একটি শিশুর শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে। মৃতদের মধ্যে মসজিদের ইমাম আব্দুস সোবহানও রয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, শনিবার রাত ১০টায় তাঁর মৃত্যু হয়। ইমামের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগরের পুটিয়াজুড়ি গ্রামে। তাঁর ছেলে আব্দুল মালেকও এই দুর্ঘটনায় দগ্ধ হয়ে মারা গিয়েছেন।
মসজিদের মুয়াজ্জিন দেলোয়ার হোসেন ও তাঁর ছেলে জুনায়েদও (১৬) মারা গিয়েছে। দু’দিন আগেই গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার লাঙ্গলকোট থেকে বাবার কাছে এসেছিল জুনায়েদ।
শাহবাগ থানার সাব-ইনস্পেক্টর গোলাম হোসেন খান জানান, স্বজনদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৬ জনের মৃতদেহ শনাক্তের পর স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্ত আর করা হয়নি। বাকিদেরও হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
