bangladesh news: বাংলাদেশের মসজিদে এসি থেকে বিস্ফোরণ, মৃত্যু বেড়ে ২১ – 21 killed as air conditioners explode in bangladesh mosque

এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ শহরে মসজিদে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মসজিদে থাকা বাতানুকূল যন্ত্রে বিস্ফোরণের জেরে আগুন ধরে যায়। দগ্ধ হয়ে শনিবার রাত ১১টা পর্যন্ত ২১ জন মারা গিয়েছেন। শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিত্‍‌সাধীনদের মধ্যে অনেকেরই অবস্থা সংকটজনক। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। হাসপাতালের তরফে জানা গিয়েছে, এই মুহূর্তে যাঁরা চিকিত্‍‌সাধীন, তাঁদের প্রায় সকলেরই শরীরের কমপক্ষে ৩০ শতাংশ দগ্ধ।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, মসজিদের ছ’টি বাতানুকূল যন্ত্রেই বিস্ফোরণ ঘটে। যে কারণে হতাহতের সংখ্যা এত বেড়েছে। এখনও ৫০ জন অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি। ওই মসজিদের আশপাশে বসবাসরত লোকজনের থেকে খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাত পৌনে ন’টা নাগাদ ফতুল্লার ওই মসজিদে পরপর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। মসজিদে সবেমাত্র তখন নমাজপাঠ শেষ হয়েছে। স্পার্কিং থেকে প্রথমে একটি এসিতে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে বাকিগুলিতেও বিস্ফোরণ থেকে আগুন ধরে যায়।

এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের লোকাল স্টাফদের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন মসজিদ কমিটির সভাপতি। তাঁর অভিযোগ মসজিদ ভবনে গ্যাস লিকেজ হচ্ছিল। তিতাসের স্থানীয় আধিকারিকদের জানালে, ৫০ হাজার টাকা ঘুষ চায়।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল হামিদ জানান, এই ঘটনায় তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের গাফিলতি থাকলে, কড়া পদক্ষেপ করা হবে। পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গড়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

শুক্রবার রাতে মসজিদে বিস্ফোরণের পর পঞ্চাশেরও বেশি অগ্নিদগ্ধকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছিল। শনিবার সকাল ৯টার মধ্যেই ১১ জন মারা যান। বেলা গড়ানোর সঙ্গে ধাপে ধাপে মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকে। দুপুরের মধ্যেই মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ হয়। বিকেলের মধ্যে মৃত্যু বেড়ে হয় ১৭। রাত ১১টার মধ্যে এই সংখ্যাটা ২১-এ পৌঁছে যায়।

সরকারি সূত্রে খবর, শনিবার সন্ধের মধ্যেই ১৬ জনের মৃতদেহ তাঁদের স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সন্ধের পর যাঁরা মারা গিয়েছেন, রবিবার তাঁদের মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। মৃতদের মধ্যে জুয়েল নামে একটি শিশুর শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে। মৃতদের মধ্যে মসজিদের ইমাম আব্দুস সোবহানও রয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, শনিবার রাত ১০টায় তাঁর মৃত্যু হয়। ইমামের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগরের পুটিয়াজুড়ি গ্রামে। তাঁর ছেলে আব্দুল মালেকও এই দুর্ঘটনায় দগ্ধ হয়ে মারা গিয়েছেন।

মসজিদের মুয়াজ্জিন দেলোয়ার হোসেন ও তাঁর ছেলে জুনায়েদও (১৬) মারা গিয়েছে। দু’দিন আগেই গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার লাঙ্গলকোট থেকে বাবার কাছে এসেছিল জুনায়েদ।

শাহবাগ থানার সাব-ইনস্পেক্টর গোলাম হোসেন খান জানান, স্বজনদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৬ জনের মৃতদেহ শনাক্তের পর স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্ত আর করা হয়নি। বাকিদেরও হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

পথ হারানো ৩ চিনা নাগরিকের প্রাণ বাঁচালেন ভারতীয় জওয়ানরা

Sun Sep 6 , 2020
পথ হারানো ৩ চিনা নাগরিকের প্রাণ বাঁচালেন ভারতীয় জওয়ানরা Source link

You May Like

Breaking News

Recent Posts