Kolkata metro: কলকাতা মেট্রোর নিউ নর্ম্যাল, চেনা পথে নতুন যাত্রা – kolkata metro starts running from monday after 175 days amid unlock 4

এই সময়: সোমবার সকাল ১০টা।

দমদম আছে দমদমেই। চেনা সিঁড়ি, টিকিট কাউন্টার, চেনা প্ল্যাটফর্ম।

কিন্তু সবই ফাঁকা। লোকাল ট্রেন তো বন্ধই, ১৭৫ দিন পর সাধারণ যাত্রীর জন্য মেট্রো দোর খুললেও নিউ নর্ম্যালে সে যাত্রী নেবে মাথা গুনেই। হাতে নির্দিষ্ট স্লটের ই-টিকিট থাকলে তবেই প্রবেশের অধিকার। যাত্রীও তাই হাতেগোনা। ঘামের নয়, এলাকা জুড়ে স্যানিটাইজারের গন্ধ। হাতে থার্মাল গান, সঙ্গে পুলিশের প্রশ্ন। ‘ই-টিকিট আছে তো? স্মার্টকার্ড আছে, না কিনবেন?’ মুহূর্তে মুহূর্তে ঝকঝকে প্ল্যাটফর্মেও স্যানিটাইজার স্প্রে। করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষার সুফল এমনই যে, দেশের প্রাচীনতম কলকাতা মেট্রোয় উঠলেও মনে হচ্ছে এলেম নতুন দেশে!

কিন্তু ক’জন এলেন?

দৈনিক সাড়ে ৬ লক্ষ যাত্রী নিয়ে চলা মেট্রো আগেই জানিয়েছিল, নিউ নর্ম্যালে সেই সংখ্যাটা মেরেকেটে দিনে ৫০ হাজারে নামবে। কিন্তু প্রথম দিন, সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার যাত্রায় সেটা নামল কুড়ি হাজারেরও নীচে। ১০টা ১০ নাগাদ নোয়াপাড়া থেকে যে রেকটা দমদমে এসে দাঁড়াল, সেই রেকের ৮টা কামরায় ছ’জন যাত্রী। দমদম স্টেশন থেকে ওই রেকে উঠলেন ২৪ জন। মোট ৩০ জন যাত্রী নিয়ে বেলগাছিয়ার দিকে যাত্রী শুরু করল রেকটা। স্বাভাবিক অবস্থায় দমদমে এই সময় যাত্রীর ভিড়ে কামরার দরজা বন্ধ করা যায় না। এখন সুরক্ষাবিধি মানতে মেট্রোর প্রতি কামরায় যাত্রীর সর্বোচ্চ সংখ্যা ৫০। সেখানে একটা গোটা রেকেই যাত্রী ৩০! ফল? প্রথম দিনে ভিড় নিয়ন্ত্রণের যে কঠিন পরীক্ষায় নামার জন্য মেট্রো তৈরি হয়েছিল, যাত্রীর অভাবে পরীক্ষায় বসতেই হল না প্রায়। মেট্রো কর্তাদের কয়েক জন আফসোসও করলেন, এত পরিকল্পনা, আয়োজনের পর মাত্র হাজার কুড়ি যাত্রী! মাঠে নামা হল, কিন্তু ঘাম ঝরানোর সুযোগই মিলল না।

ভাগ্যিস মেলেনি! এমনও মনে করছেন অনেকে।

তাঁরা অবশ্য মেট্রো আধিকারিক নন, যাত্রী। কারণ প্রথম দিনেই, হাতেগোনা যাত্রী নিয়ে মেট্রো যাত্রায় ই-টিকিট ও স্মার্টকার্ড নিয়ে এত প্রশ্ন তৈরি হয়ে গেল যে, সত্যিই হাজার পঞ্চাশ যাত্রী এলে সবাইকে সামলানো হত কী করে – সেই নিয়ে সন্দিহান বেশ কয়েক জন ভুক্তভোগী। কারণ প্রযুক্তিনির্ভর নতুন নিয়মে মেট্রোযাত্রার সময় সাহায্যের জন্য কোনও স্টেশনে কলকাতা মেট্রোর তরফে কোনও হেল্পডেস্ক নজরে পড়েনি। কৈলাস বোস রোডের বাসিন্দা ৭৪ বছরের এল পি কোঠারি কোনও ই-পাস ছাড়াই এসেছিলেন টালিগঞ্জ মেট্রো স্টেশনে। একেবারে সাধারণ ফোনে কোনও ব্রাউজার না থাকায় ই-পাস ডাউনলোড করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত স্টেশনে ঢোকা হল না তাঁর। বিরক্ত হয়ে মেট্রোকর্মীদের বলে গেলেন, ‘তা হলে আমার মতো লোকজন আর মেট্রোয় চাপতে পারবেন না? মেট্রোয় চড়ার জন্য তো ফোন বদলাতে পারব না।’ অথচ তাঁকে জানানোর কথা, কম্পিউটার থেকেও নির্দিষ্ট লিঙ্কে টিকিট কেটে প্রিন্ট করিয়ে তিনি মেট্রো চড়তে পারতেন। বহু জায়গায় স্টেশনের প্রবেশপথে থাকা কলকাতা পুলিশের কর্মীরাই যাত্রীদের ই-পাস সংক্রান্ত যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর দিলেন।

তবে ভালো অভিজ্ঞতাও রয়েছে। লম্বা লাইন এড়াতে সকাল ৭টা নাগাদ কবি সুভাষ স্টেশনে এসে হাজির হয়েছিলেন তারাপদ ঘোষ। কিছুক্ষণের মধ্যেই এক এক করে এসে হাজির হলেন মধুছন্দা গুহ ঠাকুরতা, দামোদর দত্ত, দেবাশিস মুখোপাধ্যায়রা। রেকের দরজা খুলতেই পছন্দসই জায়গায় বসে তৃপ্তির হাসি দিলেন মধুছন্দা। বললেন, ‘কতদিন পর ফের মেট্রোয়। দারুণ ভালো লাগছে।’ একই বক্তব্য কালীঘাটে আসার জন্য সকাল ৮টার ট্রেনে দমদম থেকে ওঠা অনন্ত চৌধুরীরও। বললেন, ‘বাসের চেয়ে মেট্রো সব সময়ই ভালো।’

মেট্রোরেলে চাপতে গেলে অবশ্যই যাত্রার স্লক বুক করতে হবে ই-পাসের মাধ্যমে। যাতে বুকিংয়ে কোনও অসুবিধা না হয় তার জন্য দু’দিন আগে থেকেই ই-পাসের লিঙ্কে ক্লিক করে রীতিমতো প্র্যাকটিস করে রেখেছিলেন দমদমের সুভাষচন্দ্র সিংহ। সত্তর পার করা সুভাষবাবুর কোনও অসুবিধাই হয়নি ই-পাস বুক করার ক্ষেত্রে। প্রবীণ নাগরিকদের জন্য নির্দিষ্ট আসনে বসে বললেন, ‘খুবই সহজ ব্যবস্থা। কয়েক সেকেন্ডে বুক হয়ে গেল।’ এত ঝকঝকে কামরা আর স্টেশন শেষ কবে দেখেছেন, মনে করতে পারলেন না বহু মেট্রোযাত্রীই।

প্রথম দিনের মেট্রো পরিষেবা ও তাতে যাত্রীদের কম সাড়া প্রসঙ্গে কলকাতা মেট্রোর জেনারেল ম্যানেজার মনোজ যোশী বলেন, ‘একাধিক কারণে এমন হতে পারে। প্রথমত লোকাল ট্রেন বন্ধ। তাই বহু যাত্রী আসেননি। এর উপর অনেক দিন পর মেট্রো চালু হচ্ছে বলে অনেকেই হয়তো প্রথম দিনেই মেট্রোয় উঠতে চাননি। কয়েক দিনের মধ্যেই যাত্রীর সংখ্যা আরও অনেকটা বাড়বে বলে আশা করছি আমরা।’

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

মমতার সরকারের লকডাউনের দিন ঘোষণা নিয়ে আক্রমণ রাহুল সিনহার, Rahul Sinha criticises Mamata Banerjee Govt on their decision on priest's allowance

Tue Sep 15 , 2020
পুরোহিতদের ভাতা দেওয়ার ঘোষণা মমতার নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন, রাজ্যের প্রায় ৮ হাজার পুরোহিতকে পুজোর মাস থেকে হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। সেইসঙ্গে বাংলা আবাস যোজনার ঘরও দেওয়া হবে তাঁদের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তিনি পুরোহিতদের দুরবস্থা নিয়ে চারবার বৈঠক করেছেন। মরণকালে হরি নাম বিষয়টি নিয়ে আক্রমণ […]

You May Like

Breaking News

Recent Posts