Corona Vaccine: ভ্যাকসিন এলেই বাজিমাত নয়, উন্মাদনাকে দুষে বলছেন বিশেষজ্ঞরা – experts say vaccine will not solve all the problem of coronavirus

এই সময়: ভিনি, ভিডি, ভিসি! করোনার প্রতিষেধক নিয়ে উন্মাদনা এমনই তুঙ্গে যে আমজনতার একটা বড় অংশ এমনটাই ভাবছেন। যেন, প্রতিষেধক এলেই বাজিমাত হয়ে যাবে, নিমেষে বধ হবে করোনাসুর।

কিন্তু বাস্তব কি তা-ই? বিশেষজ্ঞরা সাফ জানাচ্ছেন, একেবারেই না। বরং অচিরেই যদিও বা করোনার একটি কিংবা একাধিক প্রতিষেধক সফল ভাবে বাজারজাত হয়েও যায়, সে ভ্যাকসিন আমার-আপনার পেতে অনেক দিন!

বৃহস্পতিবারই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন জানিয়েছেন, সরকার আশাবাদী যে আগামী বছরের গোড়াতেই হয়তো করোনার ভ্যাকসিন পেয়ে যেতে পারে দেশ।

কিন্তু ভ্যাকসিন পেয়ে যাওয়ার পর কী হবে? দিল্লি যে অনেক দূর, সে কথাই বৃহস্পতিবার উঠে এল কোভিড কেয়ার নেটওয়ার্ক আয়োজিত একটি ওয়েবিনারে। তাবড় চিকিৎসাবিজ্ঞানী থেকে জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিলেন, সফল ভাবে প্রতিষেধক এসে যাওয়ার পরও গুচ্ছ অন্তরায় আছে মাঝে, যার জেরে বাজারজাত হওয়া আর আপনার-আমার প্রতিষেধক নেওয়ার মধ্যে হয়তো রয়েছে কয়েক বছরের ব্যবধান।

অনলাইন আলোচনাচক্রে বার বারই সে জন্য সঞ্চালক-চিকিৎসক অভিজিৎ চৌধুরী, দীপ্তেন্দ্র সরকার, সায়ন্তন বন্দ্যোপাধ্যায়, যোগেশ জৈনদের কথায় উঠে এসেছে, ভ্যাকসিন নিয়ে উন্মাদনার কোনও প্রাসঙ্গিকতাই নেই। কেননা, সেই বহু প্রতীক্ষিত প্রতিষেধক যে দীর্ঘমেয়াদে করোনাকে বশে রাখবে, তারও কোনও গ্যারান্টি নেই এখনও। তাই মাস্ক ও সাধারণ স্বাস্থ্যবিধিই সেরা সুরক্ষাকবচ।

উৎপাদন:

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী দুনিয়ার সবচেয়ে বড় সংস্থাগুলির সিংহভাগই এ দেশে। ফলে সারা পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি প্রতিষেধক তৈরি হবে ভারতেই। কিন্তু তার একটা অংশমাত্র এ দেশের জন্য। বাকিটা সারা দুনিয়ার জন্য। শুধু এ দেশের সব মানুষকেও যদি টিকাকরণ করতে হয়, তার জন্যও প্রয়োজন ১৩০ কোটি ইউনিট ভ্যাকসিন। অথচ দুনিয়ার বৃহত্তম প্রতিষেধক নির্মাতা সিরাম ইনস্টিটিউটের মতো সংস্থাও বলছে, ১০ কোটি ইউনিট তৈরিতেও কয়েক বছর লাগতে পারে।

বণ্টন:

প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব জেভিআর প্রসাদ রাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন, সারা দেশের জন্য বর্তমানে যে সুসংহত টিকাকরণ কর্মসূচির পরিকাঠামো রয়েছে তা মূলত প্রসূতি ও শিশুদের জন্য। এবং তা আট কোটি দেশবাসীর জন্য ঠিকঠাক। ১৯৮৫ সালে শুরু হলেও পাঁচ বছর পর ১৯৯০-তেই সত্যি অর্থে সেই কর্মসূচি সারা দেশে সম্প্রসারিত হয়েছিল। তাই এই পরিকাঠামো ব্যবহার করে ১৩০ কোটিকে টিকা দিতে গেলে কত দিন সময় লাগবে, কেউ জানে না! বর্তমানে এই আট কোটির কাছে সুরক্ষিত প্রতিষেধক পৌঁছে দেওয়ার মতো কোল্ডচেনই মজুত আছে দেশে। তাই আপামর ভারতবাসীকে করোনার টিকা দিতে গেলে ওষুধ ও কৃষি শিল্পের নিজস্ব যে কোল্ডচেন, তাও ব্যবহার করতে হবে। কাজে লাগাতে হবে বেসরকারি ক্ষেত্রেকেও।

কারা আগে পাবে:

সবাই যখন একসঙ্গে এই ভ্যাকসিন পাবে না, তখন কোভিড যোদ্ধাদের ঠিক পরেই কারা আগে পাবে, তার তালিকাটা জলদি তৈরি করা দরকার বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। অভিজিৎ বিনায়কের কথায়, ‘সে জন্যই কলকাতায় কো-মর্বিডিটি সমীক্ষা করা হচ্ছে। তাতে কাদের নানাবিধ অসুখ আছে, তাঁরা চিহ্নিত হবেন। এঁদেরই আগে ভ্যাকসিন পাওয়া উচিত। সমীক্ষাটি রাজ্যস্তরেও সম্প্রসারিত করা দরকার।’ প্রসাদ রাওয়ের মতে, এই সমীক্ষা সারা দেশেই হওয়া বাঞ্ছনীয়।

সুরক্ষা:

যে ভাবে সারা দুনিয়ায় ‘আগে আনা’ নিয়ে তাড়াহুড়ো ও লড়াই চলছে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক স্তরে, তা যে প্রতিষেধকের সুরক্ষার নিরিখে বড় বিপদ হতে পারে, সে কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কোভিড ভ্যাকসিন কর্মসূচির অন্যতম প্রধান চিকিৎসাবিজ্ঞানী তথা লন্ডন স্কুল অফ হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের সংক্রামক রোগের বিভাগীয় প্রধান চিকিৎসক হেইডি লারসন। প্রসাদ রাও মনে করেন, এই তাড়াহুড়োর কারণে সুরক্ষাজনিত কোনও সমস্যা পরে দেখা দিলে, তা থেকে সাধারণ মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন।

কার্যকারিতা:

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ বায়োমেডিক্যাল জিনোমিক্সের অধিকর্তা পার্থ মজুমদার জানাচ্ছেন, করোনার অন্তত ১১টি প্রজাতি হামলা চালাচ্ছে মানবশরীরে। প্রত্যেকটি প্রজাতিকে একত্রে নিয়ে তৈরি করতে হবে ভ্যাকসিন। তাঁর কথায়, ‘জিনবিন্যাস বিশ্লেষণ করে আমরা প্রমাণ করেছি, সবক’টির মধ্যে এ-টু-এ প্রজাতিটির দাপাদাপিই সবচেয়ে বেশি। তাই প্রতিষেধক যেন এই প্রজাতিটির জন্য অবশ্যই কার্যকর হয়।’ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ইমিউনোলজির সত্যজিৎ রথ জানাচ্ছেন, ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস নিয়মিত নিজেদের বদলায় বলে প্রতি বছরই যেমন এর টিকা নতুন করে নিতে হয়, করোনার ক্ষেত্রেও তা-ই হবে কি না, কেউ জানে না। অর্থাৎ, কোভিড ভ্যাকসিন কার্যকর হলেও তার কার্যকারিতার মেয়াদ নিয়ে সংশয়টা থাকছেই।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

US Fed keeps rate unchanged; A status quo also on cards in upcoming RBI policy

Fri Sep 18 , 2020
The US Federal Reserves decided to maintain its federal fund rate at 0-0.25% in the latest monetary policy announcement. Notably, the Fed also vowed to keep the rate near zero range until 2023. Although, the Reserve Bank of India (RBI) policy stance is not related to the US Fed’s decision, […]

You May Like

Breaking News

Recent Posts