IMA-র রিপোর্ট বলছে, মৃত চিকিত্সকদের মধ্যে ৭৩ জন ছিলেন পঞ্চাশ-ঊর্ধ্ব। ১৯ জনের বয়স ছিল ৩৫ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। ৩৫-অনূর্ধ্ব চিকিত্সক মারা গিয়েছেন সাত জন।
করোনাভাইরাস সংক্রমণে অসমে এ পর্যন্ত দুই চিকিত্সক মারা গিয়েছেন। মৃত চিকিত্সকদের মধ্যে একজন গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজের চক্ষুরোগ বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডাক্তার জোহান ইকবাল আহমেদ। সোমবার তাঁর মৃত্যু হয়। কোভিডে দ্বিতীয় যে চিকিত্সক মারা গিয়েছেন, সেই ডাক্তার পিকে শর্মা তিনসুকিয়ায় নিজের চেম্বারে রোগী দেখতেন। কোভিড পজিটিভ ধরা পড়ার পর, ডিব্রুগড়ের অসম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। চিকিত্সাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
পশ্চিমবঙ্গেও করোনায় আক্রান্ত হয়ে দুই চিকিত্সক মারা গিয়েছেন। মধ্যপ্রদেশে মারা গিয়েছেন দু-জন এবং মুম্বইতে একজন চিকিৎসক। দিল্লি, কর্নাটক-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। মৃত্যুও হচ্ছে। করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পুরোভাগে থাকা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মৃত্যুতে রীতিমতো চিন্তিত কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক।
কলকাতায় যে চিকিৎসক মারা গিয়েছেন, তিনি ছিলেন অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞ। করোনার প্রকোপ বাড়লেও তিনি রোগীদেখা বন্ধ করেননি। রোগীদের কষ্টের কথা ভেবে আগের মতোই তাঁদের দেখেছেন, এমনকী অস্ত্রোপচারও করেছেন। তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে সল্টলেকের এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। ১৭ এপ্রিল ৬৯ বছর বয়সী এই চিকিৎসককে ভেন্টিলেটারে দিতে হয়। কিন্তু বাঁচানো যায়নি।
মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রেও করোনায় চিকিৎসকদের মৃত্যু হয়েছে। মধ্যপ্রদেশে প্রথম চিকিৎসকের মৃত্যু হয় ইন্দোরে। তিনি বস্তিবাসীদের চিকিৎসা করতেন। করোনার পরেও তা থামাননি। দ্বিতীয় চিকিৎসকের মৃত্যুও ইন্দোরেই। মুম্বইতেও এক প্রবীণ চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন।
বুধবার আইএমএ’র জাতীয় সভাপতি ডাক্তার রঞ্জন এবং সাম্মানিক সাধারণ সচিব ডাক্তার আরভি অশোকান এই রেড অ্যালার্ট জারি করার কথা জানান। কোভিডে চিকিত্সকদের মৃত্যু উদ্বেগজনক হিসেবে তাঁরা উল্লেখ করেন।
চিকিত্সংগঠনের বক্তব্য, নিজেদের, নিজের পরিবারের এবং সহকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চিকিত্সকদের বর্তমান পরিস্থিতিতে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে। অপারেশন থিয়েটার, লেবার রুমস, ল্যাবরেটরি, আইসিইউ ও সিসিইউতে বিশেষ নজর দেওয়ার কথা বলা হয়। কোভিড সুরক্ষার নিয়মকানন কড়া ভাবে মেনে চলতে বলা হয়েছে।
আইএমএ জানিয়েছে, সিনিয়র ও জুনিয়র ডাক্তাররা সমান ভাবে সংক্রামিত হয়েছেন। তবে, সিনিয়র ডাক্তারদের মৃত্যুর হার অনেক বেশি।
