bangladesh news: ভারত-চিন যুদ্ধ হলে কোন দিকে বাংলাদেশ? জানুন… – how bangladesh reacted on india china border tension

হাইলাইটস

  • ২০১০ সালেও ভারত-চিন সম্পর্কের প্রভাব নিজের দেশ টের পেয়েছিল ঢাকা।
  • চিনের সাহায্যে চট্টগ্রামে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ করার উদ্যোগ নিয়েছিল বাংলাদেশ। প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছিল বেজিংও।
  • তবে আমেরিকা, জাপান এবং ভারতের চাপের কাছেই চিনা সংস্রব ত্যাগ করতে হয়েছিল বাংলাদেশকে।
  • পরে একই বন্দর নির্মাণে সাহায্য নিয়ে এগিয়ে এসেছিল জাপান।

এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: লাদাখের গলওয়ানে ভারত-চিন (India-China Tensions) রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক সমীকরণ অনেকটাই বদলাতে শুরু করেছে। এরপর থেকেই প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করিয়ে ভারতকে একঘরে করার কৌশলে মেতেছে বেজিং। যার প্রভাব সাম্প্রতিক একাধিক ইস্যুতে ভারত-নেপাল বা ভারত-ভূটান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, চিনের কূটনৈতিক এই রণকৌশলের মূল স্বার্থ ভৌগলিকই। তবে এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যও। এই কারণেই কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশকে (Bangladesh) নিশানা করেছে চিন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঢাকায় লগ্নির পাশাপাশি সে দেশের গ্রামীণ বাজারগুলিতেও পণ্য নিয়ে হাজির হচ্ছেন চিনা বণিকরা। চিনা প্রভাব বিস্তার হয়েছে ঢাকার শেয়ার বাজারেও।

নানা টানাপোড়েন সত্ত্বেও ভারতের সঙ্গে পরীক্ষিত সুসম্পর্ক রয়েছে বাংলাদেশের। ভারত-চিন পরিস্থিতি নিয়ে তাহবে ঢাকার মত কী? এক জাতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, ‘দুই দেশ (ভারত-চিন) বাংলাদেশের খুবই ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আমরা তাই দুই দেশের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চাইছি। উন্নয়নের জন্য শান্তি ও স্থিতিশীলতা অত্যন্ত জরুরি।’ ভারত-চিনকে অবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

এক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম BBC-র এক পর্যবেক্ষণ। যা অনুযায়ী, ভারত-চিন জটিল সম্পর্কের প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের উপরও। আর যদি যুদ্ধ হয়, তবে সুসম্পর্ক রাখা দুই দেশের মধ্যে থেকে কাউকে বাছাই করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে ঢাকার জন্য। এই নিয়ে আরও বলা হয়েছে, ২০১০ সালেও ভারত-চিন সম্পর্কের প্রভাব নিজের দেশেও টের পেয়েছিল ঢাকা। সে সময় চিনের সাহায্যে চট্টগ্রামে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ করার উদ্যোগ নিয়েছিল বাংলাদেশ। প্রস্তাবে সম্মতিও দিয়েছিল বেজিং। তবে আমেরিকা, জাপান এবং ভারতের চাপের কাছেই চিনা সংস্রব ত্যাগ করতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। যদিও পরে একই বন্দর নির্মাণে সাহায্য নিয়ে এগিয়ে এসেছিল জাপান।

বর্তমান সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগী দেশগুলির সঙ্গে যথেষ্ট সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছে মোদী সরকার। রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং কূটনৈতিক তো বটেই প্রয়োজনে ভারতকে সামরিক সাহায্যও দিতে পারে এই দেশগুলি। প্রসঙ্গত, ভারত-চিন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন বিদেশ সচিব জানিয়েছেন, ইউরোপে তাঁদের প্রধান ঘাঁটি জার্মানি থেকে বাহিনী সরিয়ে এবার এশিয়ায় মোতায়েন করা হবে। মার্কিন এই তৎপরতাকে ‘অবাঞ্ছিত’ বলে সমালোচনা করেছে বেজিং। দক্ষিণ এশিয়ায় আমেরিকা অযাচিত ভাবে ঝামেলা পাকানোর চক্রান্ত করেছে বলেও অভিযোগ তোলা হয় চিনের সরকারি মুখপত্র গ্লোবাল টাইমসে।

ভারত-মার্কিন ঘনিষ্ঠতা যত বাড়ছে ততই দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতীয় পড়শিদের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছে চিন। ভারতের পশ্চিমে পাকিস্তান, দক্ষিণে শ্রীলঙ্গা-মলদ্বীপ, উত্তরে নেপাল-ভুটান থেকে পূর্বে বাংলাদেশ- প্রত্যেক দেশের সঙ্গেই চিনের সম্পর্ক আগের থেকে নিবিড় হয়েছে। পাকিস্তান ছাড়াও এরমধ্যে নেপালের সঙ্গেও ভারতের সম্পর্ক আগের মতো উষ্ণ নেই। সম্প্রতি জল নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে ভূটানের সঙ্গেও। আবার শ্রীলঙ্কার বায়ুসেনাকে পাক সাহায্য নিয়েও উদ্বিগ্ন নয়াদিল্লির সাউথ ব্লক।

আরও পড়ুন: তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শিয়রে! যা যা ঘটতে পারে জেনে রাখুন…

এমন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বাংলাদেশের ভূমিকা। সম্প্রতি ঢাকাকে পাশে পেতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বেজিং। বাংলাদেশ থেকে চিনে রফতানি হওয়া অতিরিক্ত ৫১৬১টি পণ্যের ৯৭% শুল্ক মকুব করেছে চিন। বেজিংয়ের তরফে বলা হয়েছে, ‘স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুন: দিল্লি কি দেখছে? বাংলাদেশকে করোনার ওষুধ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি চিনের!

পররাষ্ট্র বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত-চিন যুদ্ধ হলে বাংলাদেশের পরিস্থিতিও যে জটিল হবে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। তবে আপাতত পরিস্থিতি মোকাবিলায় কূটনৈতিকভাবে সক্রিয় হতে হবে ঢাকাকে।

আর এমন সময়ে নয়াদিল্লির কী করা উচিত? আপনাদের মত কী? আমাদের জানান নীচের কমেন্ট বক্সে। মন্তব্য করুন ইংরেজি বা বাংলায়-

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

Banks roll out Video KYC facilities for customer onboarding amidst COVID-19 pandemic, BFSI News, ET BFSI

Sat Jun 27 , 2020
Numerous Indian Banks are now offering potential customers the option of filling in mandatory Know Your Customer (KYC) formalities through Video, amidst the COVID-19 pandemic. Thus far, ICICI Bank, IDFC First Bank, IndusInd Bank, Kotak Mahindra Bank and Yes Bank are amongst the lenders to have rolled out Video KYC […]

You May Like

Breaking News

Recent Posts