হাইলাইটস
- মুর্শিদাবাদে বাজ পড়ে ৬ জনের মৃত্যু
- মৃত্যু সাগরদিঘি ও ভরতপুরে
- সাগরদিঘিতে মৃত ৩, জখম ২
- ভরতপুরে মৃত্যু ৩ জনের
- কলকাতায় ৮১ কিলোমিটার গতিবেগে ঝড়
পুলিশ জানায়, সাগরদিঘির একটি বেগুনখেতে পাঁচ জন কাজ করছিলেন। হঠাত্ বজ্রবিদ্যুত্-সহ বৃষ্টি শুরু হলে, তাঁরা সেখানকার এক পাম্পহাউসে আশ্রয় নেন। দুর্ভাগ্যবশত সেখানেই বাজ পড়ে। ঘটনাস্থলেই মারা যান তিন জন। দু-জন জখম হন। মৃতদের নাম সমীর মণ্ডল (৩০), ভারতী মণ্ডল (৪০) ও শিবরাম মাহাতো (৪৫)। জখম রাজবুলা মণ্ডল ও তেতরি মাহাতোকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে, খেতে কাজ করে বাড়ি ফেরার সময় ভরতপুরে বাজ পড়ে মারা গিয়েছেন তিন জন। বৃষ্টি থামলে, গ্রামবাসীরা তিন জনকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে, তিন জনকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের নাম ইমতিয়াজ আলম (১৯), মতিচাঁদ আলি (৩৭) ও শেফালি শেখ (৫৫)।
শনিবার দুপুর থেকে সন্ধের মধ্যে কয়েক দফায় দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুত্-সহ ঝড়বৃষ্টি হয়। কলকাতার উপর দিয়ে ঘণ্টায় ৮১ কিলোমিটার গতিবেগে ঝড় বয়ে গিয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, রবিবারও উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
দু-দিন আগেই উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে বজ্রপাতে ব্যাপক প্রাণহানি হয়। ওই দুই রাজ্যে বাজ পড়ে কমপক্ষে ১২৫ জনের মত্যু হয় বল খবরে প্রকাশ। এর মধ্যে শুধু বিহারেই একদিনে ৯০ জনের উপর মারা গিয়েছেন। মৃতদের মধ্যে বেশির ভাগই কৃষক। বিহারের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের হিসেব অনুযায়ী বাজ পড়ে রাজ্যে ৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জন মারা গিয়েছেন গোপালগঞ্জ জেলায়। সরকারি একটি সূত্র জানাচ্ছে, মধুবনী ও নবাদা জেলায় ৮ জন করে মারা গিয়েছেন। ভাগলপুর ও সিওয়ানে বজ্রপাতের (Lightning kills in Bihar) বলি ৬ জন করে। বাঙ্কা, দ্বারভাঙা ও পূর্ব চম্পারণ জেলায় পাঁচ জন করে মারা গিয়েছেন।
এ ছাড়া খাগারিয়া ও ঔরঙ্গাবাদ জেলায় বজ্রপাতে ৩ জন করে মারা গিয়েছেন। জেহানাবাদ, কিষানগঞ্জ, পশ্চিম চম্পারণ, জামুই, পূর্ণিয়া, সুপাউল, কৈমুর ও বক্সারে ২ জন করে মারা গিয়েছেন। সরান, শিবহর, সমস্তিপুর, মাধেপুরা ও সীতামারিতে এখনও পর্যন্ত একজন করে মারা গিয়েছেন বলে সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
ভারতে প্রতিবছর বহু মানুষ বজ্রপাতে মারা যায়। তবে, আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে ওডিশা কিন্তু বজ্রপাতে মৃত্যু কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বেসরকারি কোম্পানির সহযোগিতায় বজ্রপাতের আগাম সতর্কতা জারির ব্যবস্থা করেছে ওডিশা। যে কারণে তারা বজ্রপাতে মৃত্যু ৩১ শতাংশ কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।
