শেষ তিন মাস, সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ সাড়া ফেলে দেয় কবীরের আঁকা ছবি। টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে কবীরের মা জানিয়েছেন, পরিযায়ীদের জন্য আমি ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার হয়ে থেপলা বানাতে শুরু করি। পরিযায়ীদের সমস্যা মিটে গেলে সেই কাজ বন্ধ রাখা হয়নি। গরিব মানুষদের জন্য শুরু হয় রান্না করার কাজ। আমরা সিদ্ধান্ত নিই, গরিবদের মধ্যে খাবার বিলিয়ে দেওয়াই এখন প্রধান লক্ষ্য। এর পাশাপাশি আমি কবীরকে পেন্টিং করতে বলি। বলতে গেলে মায়ের দেখানো পথেই কবীরের পথচলা শুরু। প্রথমদিকে কবীরের কয়েকটি ছবি বন্ধু ও ঘনিষ্ঠদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলে দেয়। তারপর তাঁদের মধ্যেই কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর ছবি পোস্ট করে দেন। কোভিড রোগীদের পাশে দাঁড়াতে কবীরের ছবিই হাতিয়ার হয়ে ওঠে তাঁদের। কোভিড রোগীদের পাশে দাঁড়াতে সেই সুন্দর সুন্দর আঁকা ছবি বিক্রি করা হয়। কবীরের গর্বিত মা জানিয়েছেন, প্রথমে আমার একটি ছবি ছয় হাজার টাকায় বিক্রি করেছিলাম। পরে আমরা চেন্নাই, বেঙ্গালুরু, আমেরিকা ও লন্ডনের ব্যবসায়ীদের কাছে কল করি। আমরা চাইছিলাম যে কবীরের ছবি কিনুক তাঁরাই , যাঁরা এই খুদের আঁকা ছবি তাঁদের বাড়িতে, অফিসে সাজিয়ে রাখবেন। সেই পথ ধরেই এগিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আর সেই পথেই আসতে শুরু করে অর্থও।
গোটা পদ্ধতিতে সবচেয়ে বেশি যাঁরা এগিয়ে এসেছিল , তাঁদের নাম বলতেই হয়। গরিবর মানুষদের সেবার কাজে জড়িত শ্রীমাদ রাজচন্দ্র লাভ অ্যান্ড কেয়ার এসআরএলসি স্বেছাসেবী সংস্থা। এই এনজিও-ই কবীরকে এমন সেবামূলক কাজে উদ্বুদ্ধ করতে সাহায্য করেছিল। তবে সবশেষে কবীর জানিয়েছে, দেশে এই কঠিন পরিস্থিতি যখন স্বাভাবিক হয়ে যাবে, ফের স্কুলে যেতে শুরু করবে, তখনও ঠিক এই ভাবেই নিজের কাজ করে যাবেন। শহরের গরিব মানুষদের জন্য এইভাবেই অর্থ দান করে যেতে যায় সে।
