Dalai Lama: চিনকে কড়া জবাব দিতে দলাই লামাকে ভারতরত্নে সম্মানিত করার প্রস্তাব সঙ্ঘ পরিবারের – confer bharat ratna on dalai lama, send strong response to china, says sangh parivar

হাইলাইটস

  • দলাই লামাকে ভারতরত্ন দেওয়ার দাবি
  • দাবি তুলল সঙ্ঘ পরিবার
  • সঙ্ঘ পরিবারের দাবি, এটাই চিনের জন্য মোক্ষম জবাব হতে পারে
  • এই প্রস্তাবে দ্বিধাবিভক্ত কেন্দ্রীয় আমলারা
  • একপক্ষের মতে, সংঘাতের আবহে এই প্রস্তাব বিবেচনা করাই যেতে পারে
  • আর একপক্ষের মত, চিন আরও খেপবে। সংঘাত আরও বাড়বে। সুরাহা কিছু হবে না

এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: চিন-ভারত সংঘাতের আবহে ‘দলাই লামা‘ তাস খেলার প্রস্তাব দিল ভারতীয় জনতা পার্টির ‘মেন্টর’ সঙ্ঘ পরিবার (Sangh Parivar)। মোদী সরকারে উদ্দেশে সঙ্ঘ পরিবারের প্রস্তাব, চিনকে কড়া জবাব দিতে ভারতের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ভারতরত্নে ভূষিত করা হোক তব্বতি ধর্মগুরু দলাই লামাকে (Dalai Lama)। সরকারের সর্বোচ্চ স্তরে দলাই লামাকে ভারতরত্ন (Bharat Ratna) দেওয়ার প্রস্তাব বিবেচনাধীন রয়েছে। এই প্রস্তাব নিয়ে কেন্দ্রের শীর্ষ আধিকারিকরা দ্বিধাবিভক্ত। আমলাদের একাংশের বক্তব্য, ভারত-চিন সংঘাতের আবহে এই প্রস্তাব ভেবে দেখা যেতে পারে। আমলাদের অপর অংশ অনেকটাই সংযত। তাঁদের ধারণা, এই পদক্ষেপ আগুনে ঘৃতাহুতি দেওয়ার শামিল। এই সংঘাতের আবহে দলাই লামাকে ভারতরত্ন দিলে, নিশ্চিত ভাবেই কড়া প্রতিক্রিয়া দেখাবে চিন।

৬১ বছর আগে, ১৯৫৯-এর মার্চের এক রাতে চিনের লাল ফৌজের লালচক্ষু উপেক্ষা করে পথে নেমে পড়েছিলেন দলাই লামা। সঙ্গী বলতে বৃদ্ধা মা, বোন, ছোট ভাই আর তাঁর কয়েক জন অফিসার। জানতেন না, তাঁর সামনে কী ভবিষ্যত্‍‌ অপক্ষা করছে।

তিব্বতের লাসার পোতালা প্রাসাদ ছেড়ে পথে নেমে পড়া ছাড়া আর কোনও পথ সেদিন খোলা ছিল না ধর্মগুরু দলাই লামার সামনে। তারও আট বছর আগেই বৌদ্ধ ধর্মাবলাম্বী স্বাধীন তিব্বতে লাল ফৌজ ঢুকিয়ে দেয় চিন। তিব্বতের দখল নেওয়ার জন্য শুরু হয় অত্যাচার। নির্যাতন। লাল ফৌজকে রুখতে সেদিন গণ-আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন দলাই লামা। তাই তিনি টার্গেট হয়ে উঠেছিলেন চিনের। ১৯৫৯-এর সেই সেই রাতে পথে নেমে না পড়লে চিনাসেনার হাতে নিশ্চিত ভাবেই তাঁকে প্রাণ হারাতে হতো। হয়তো তাঁর পরিবারের সদস্যরাও রেহাই পেতেন না।

সেই রাতে লাল ফৌজের পোশাক পরেই পথে নেমেছিলেন দলাই লামা। অনেক ঝড়জল, চড়াই-উতরাই, প্রতিকূলতা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত পরিবার, অনুগামীদের নিয়ে ভারতের ভূখণ্ডে এসে পৌঁছেছিলেন দলাই লামা। পালিয়ে আসার দু’দিন পর জানতে পেরেছিল লাল ফৌজ। তার পরেই তিব্বতে দলাই লামার খোঁজে বাড়িতে বাড়িতে শুরু হয়েছিল তল্লাশি, অত্যাচার। বন্দুকের মুখে রক্তগঙ্গা বইয়ে তিব্বতকে গায়ের জোরে দখলে নিয়েছিল চিন। দিনটি ছিল ১৯৫৯ সালের ২১ মার্চ। তত দিনে দলাই লামা ঢুকে পড়েছেন ভারত ভূখণ্ডে। ৩ এপ্রিল ভারত তাঁকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেয়। তাঁর নির্বাসিত সরকারকে জায়গা দেওয়া হয় হিমাচল প্রদেশের ধর্মশালায়। তার পর, সেখান থেকেই তিব্বত মুক্ত করার দাবিতে চিনবিরোধী আন্দোলন সংগঠিত করেছেন দলাই লামা। যার স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৮৯ সালে তিনি পান নোবেল শান্তি পুরস্কার।

আরও কিছু প্রস্তাবও মোদী সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। এই ৬ জুলাই জন্মদিন দলাইয়ের। ৮৪ বছরের বৌদ্ধ ভিক্ষুকে কেন্দ্রের তরফে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানোর কথাও ভাবা হচ্ছে। পূর্ব লাদাখে ভারত-চিন বিতর্কিত সীমানা নিয়ে আলোচনা কদ্দূর এগোয়, চিনে ভারতীয় ভখণ্ড ছেড়ে যায় কি না, এসব দেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নয়াদিল্লি। সীমান্ত সমস্যা মেটাতে সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে এখন আলোচনা জারি রয়েছে। যদিও, এ পর্যন্ত সদর্থক কোনও পদক্ষেপ চিন করেনি।

‘১৪তম দালাই লামাকে ভারতরত্ন দেওয়া উচিত, এটা আমি আরও বেশি বেশি অনুভব করছি।’ পূর্ব লাদাখের গলওয়ান উপত্যকায় ভারত-চিন সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার দিয়ে কয়েকের মধ্যেই ট্যুইটারে পোস্ট করেছিলেন প্রাক্তন বিদেশসচিব নিরুপমা রাও।

চিনে ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত রাও আরও লেখেন, মানবতার সেবা, তাঁর সহানুভূতি, সাহস এবং গণতন্ত্র ও মৌলিক স্বাধীনতার প্রতি তাঁর অগাধ আস্থা, মূল্যবোধ এসব কিছু জন্যই তিনি এই সম্মান পাওয়ার দাবি রাখেন।

বিজেপির প্রবীণ নেতা, হিমাচলপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শান্তা কুমার ২০১৯ সালের এপ্রিলে কেন্দ্রের কাছে চিঠি দিয়ে দলাই লামাকে ভারতরত্ন দেওয়ার আর্জি জানিয়েছিলেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাংসদদের সই ছিল সেই চিঠিতে। বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহ, পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধীও দলাই লামাকে ভারতরত্ন হিসেবে দেখেতে চেয়েছিলেন। দলাই লামার ভারতরত্নের জন্য সওয়াল করেছিলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারও।

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) পরিচালিত ভারত তিব্বত সহযোগ মঞ্চ (বিটিএসএম)-র সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ গোয়েলের বক্তব্য হল, ‘আমাদের অবশ্যই তাঁকে (দালাই লামাকে) ভারতরত্ন দিয়ে সম্মান জানাতে হবে।

কেন্দ্রের সঙ্গে দলাই লামার সম্পর্ক যথেষ্ট ভালো। ক’দিন আগে করোনা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন লামা। ভাইরাস রুখতে মোদীর পদক্ষেপের প্রশংসা করে চিঠি লিখেন তিব্বতের ধর্মগুরু। করোনা মোকাবিলায় পিএম কেয়ারস ফান্ডে অনুদানও দেন তিনি। একদিনের বেতন দিয়ে আর্থিক সাহায্য় করেন দলাই লামার অফিসের কর্মীরাও।

দলাই লামাকে ‘ভারতরত্ন’ দিলেই মোক্ষম জবাব পাবে চিন। আপনার কী মত? লিখুন আমাদের কমেন্ট বক্সে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

Choti Sarrdaarni, Naagin 4 and other Colors TV shows to air from July 6 : Bollywood News

Wed Jul 1 , 2020
The television industry came to a standstill on March 19 for the first time in years due to the infamous Coronavirus outbreak. The actors have missed being on sets and needless to say, the channels and production houses have faced monetary losses during this break. Now, the industry has steadily, […]

You May Like

Breaking News

Recent Posts