হাইলাইটস
- গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬ জন মৃতের সংখ্যা যুক্ত হয়ে এ যাবৎ করোনায় মৃত্যু হল ৬৯৯ জনের।
- গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে ৬৪৯ জন করোনা আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে। মোট আক্রান্ত ১৯,৮১৯।
- শুধু আক্রান্তের সংখ্যা নয়, সম্প্রতি স্বাস্থ্য দফতরের নজরে এসেছে হাসপাতালে ভরতি রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রোটোকলও ঠিকঠাক মানা হচ্ছে না সর্বত্র।
দিন প্রতি কোভিড টেস্টের সংখ্যা ১০ হাজারের গণ্ডি পেরোলেও, এক সপ্তাহ আগে পর্যন্তও গড়ে সাড়ে তিনশো থেকে সাড়ে চারশো আক্রান্তের খোঁজ মিলছিল রাজ্যে। ৩০ মে ৯৩৪৬ টেস্ট করে ৩১৭ জন এমনকি মাত্র দশ দিন আগেও ১০,৩৩০ টেস্ট করে ৪৪১ জন আক্রান্তের খোঁজ মিলেছিল রাজ্য। স্বভাবতই টেস্টের নিরিখে পজিটিভ আসা রোগীদের কম সংখ্যা স্বস্তিতে রেখেছিল স্বাস্থ্যকর্তা-বিশেষজ্ঞদের। কিন্তু, গত এক সপ্তাহে সে স্বস্তি উবে গিয়েছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা একধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাওয়ায়। স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তার কথায়, ‘টেস্টের নিরিখে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি মানে, সাধারণের মধ্যে রোগটা ছড়াচ্ছে। যেটা চিন্তার। আমাদের আশঙ্কা, আগামী দিনে এই সংখ্যা আরও অনেকটাই বাড়বে।’
তবে, আশার আলো যে একদমই নেই, তা অবশ্য বলা যাবে না। কারণ গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০৯ জন রোগী করোনাকে হারিয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। ফলে রাজ্যে মোট সুস্থ মানুষের সংখ্যা ১৩০৩৭। বর্তমানে অ্যাক্টিভ কোভিড রোগী ৬০৮৩। শতাংশের হারে সুস্থতা ৬৫.৭৮%।
আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি সম্প্রতি উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যেও। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে আক্রান্তের সংখ্যার পরিসংখ্যান পেশ করে মুখ্যমন্ত্রী দিন দুই আগেই বলেন, ‘কিছুটা বাড়ছে। আসলে প্রচুর লোক যাতায়াত করছে। জনসংখ্যা বেশি, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় নানা মানুষ বাস করেন। বাইরে থেকেও বহু মানুষ এসেছেন। সবাইকে নিয়েই আমাদের থাকতে হবে। সবাইকে বলব, সুস্থ থাকুন, ইমিউনিটি বাড়ান। মাস্ক পরুন, সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং বজায় রাখুন, ঠিকঠাক খাওয়াদাওয়া করুন।’
শুধু আক্রান্তের সংখ্যা নয়, সম্প্রতি স্বাস্থ্য দফতরের নজরে এসেছে হাসপাতালে ভরতি রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রোটোকলও ঠিকঠাক মানা হচ্ছে না সর্বত্র। স্বাস্থ্য দফতরের নিযুক্ত বিশেষ টিমের নজরে গত কয়েকদিন হাসপাতাল ভিজিটের পর ঠিকমতো রোগীর তথ্য নথিভুক্ত করা থেকে ঠিকমতো ট্রায়াজ মানা, স্টেরয়েডের ব্যবহার, কো-মরবিড রোগীদের ক্ষেত্রে বিশেষ নজরদারিতে খামতি, যথাযথ কালচার রিপোর্ট এবং শারীরিক অবস্থার বিচার না করেই অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার, অক্সিজেনের যথাযথ প্রেসক্রিপশন না-থাকার মতো গুরুতর খামতি নজরে পড়েছে তাঁদের। যে পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার রাতে সমস্ত সরকারি এবং বেসরকারি কোভিড হাসপাতালের জন্য নির্দেশিকা জারি করেছে স্বাস্থ্য দফতর। স্বাস্থ্য দফতরের এক উচ্চকর্তা জানান, ‘রোগীর অবস্থার খারাপ হওয়ার পিছনে অনেকাংশেই এই প্রোটোকল না-মানার ছোট ছোট ভুল দায়ী হয়ে যায়। আমরা সে ভুলগুলোই কমাতে চাই।’
উল্লেখ্য, সোমবার কোভিডমুক্ত রোগীদের নিয়ে কোভিড ওয়ারিয়র ক্লাব শুরু হওয়ার ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ক্লাব কোন কোন বিষয়ে রাজ্য সরকারকে সাহায্য করবে তার বিস্তারিত নির্দেশিকাও প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য দফতর।
