deadbodies at garia sasan: করোনায় মৃত্যু নয়, গড়িয়ার শ্মশানে লাশ নিয়ে ভুয়ো প্রচার চলছে! জানাল স্বরাষ্ট্র দফতর – decomposed bodies are not covid victims, fake video says west bengal home ministry

হাইলাইটস

  • করোনা অতিমারি সামলাতে গিয়ে সমস্ত নিয়মনীতি মেনে চলা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে রাজ্য সরকার আন্তরিক।
  • মৃতদের শেষ শ্রদ্ধা জানানো এবং যথোপযুক্ত মর্যাদায় মৃতদেহ সৎকারেরও ব্যবস্থা করছে।
  • রাজ্যপালের বিরুদ্ধে একরাশ অভিযোগ থাকলেও তাঁরা যে এখনই রাষ্ট্রপতির কাছে এ নিয়ে দরবার করতে চাইছেন না, তা-ও অবশ্য স্পষ্ট করেছেন ডেরেক৷

এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: গড়িয়া শ্মশানে বেওয়ারিশ লাশ আঁকশি দিয়ে টেনে নিয়ে যাওয়া নিয়ে ‘অসত্য’ ও ‘বিভ্রান্তিকর’ প্রচার চলছে দাবি করে শনিবার রাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তরের তরফে সরকারি ভাবে টুইট করে গোটা বিষয়ের ব্যাখ্যা দেওয়া হল। সরকারের দ্ব্যর্থহীন দাবি, একান্তই বিচ্ছিন্ন ঘটনা। মৃতদেহগুলি যে করোনা আক্রান্তদের নয়, ত-ও আগেই বলা হয়েছে। মৃতের সম্মান ও মর্যাদার প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সরকার সব সময় শ্রদ্ধাশীল। করোনা অতিমারি সামলাতে গিয়ে সমস্ত নিয়মনীতি মেনে চলা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে রাজ্য সরকার আন্তরিক। নিয়ম মেনে রাজ্য সরকার করোনায় মৃতদের আত্মীয়-স্বজনদের তথ্য জানানো, মৃতদের শেষ শ্রদ্ধা জানানো এবং যথোপযুক্ত মর্যাদায় মৃতদেহ সৎকারেরও ব্যবস্থা করছে।

এই বিষয়ে দু’দিন ধরে রাজ্যকে নিশানা করে চলেছে বিরোধী দলগুলি, বিশেষত বিজেপি। রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ও রাজ্যকে বিঁধে চলেছেন। এই পরিস্থিতিতেই স্বরাষ্ট্র দপ্তর টুইটে জানিয়েছে, মর্গে পড়ে থাকা কয়েক জন অজ্ঞাতপরিচয়ের (দুর্ঘটনায় মৃত)পচাগলা দেহ সৎকারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল একটি সংস্থাকে। এই ঘটনার সঙ্গে বর্তমান অতিমারির কোনও সম্পর্ক নেই। রাজ্য সরকারের এক শীর্ষ আধিকারিক রাজ্যপালকেও পুরো বিষয়টি লিখিত ভাবে জানিয়েছেন। দপ্তরের বক্তব্য, স্বচ্ছতার সঙ্গে পুরো ঘটনা ব্যাখ্যা করার পরেও করোনা অতিমারির সঙ্গে জুড়ে বিষয়টিকে সামগ্রিক করোনা পরিস্থিতির ছবি হিসাবে তুলে ধরার চেষ্টা হচ্ছে। গোটা রাজ্য যখন করোনা এবং উম্পুনের জোড়া আঘাত সামলে ফের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, তখন এই ধরনের প্রচার সমাজের মনে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। যাঁরা প্রশাসন সামলাচ্ছেন, তাঁরাও কাজে অনুৎসাহিত হচ্ছেন। যে সব স্বাস্থ্যকর্মী সামনের সারিতে থেকে করোনার সঙ্গে যুদ্ধ করছেন, তাঁদের মধ্যেও খারাপ প্রভাব পড়ছে।

রাজ্য সরকার এই ভাবে ব্যাখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি বিশেষত রাজ্যপালকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে শাসক তৃণমূল। কলকাতা পুরসভার প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম, তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়, দলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, দীনেশ ত্রিবেদী–প্রত্যেকেই বিজেপির পাশাপাশি নিশানা করেছেন রাজ্যপালকে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন ফিরহাদ। সাসপেন্ড করা হয়েছে মৃতদেহ সৎকারের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার সংস্থাকে। পুরসভা সূত্রের খবর, সম্ভবত তাদের কালো তালিকাভুক্তও করা হবে। ফিরহাদ টুইটে জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকার যখন রাজ্যের মানুষের জন্য নিরন্তর কাজ করে চলেছে, তখন অন্যরা ভুয়ো খবর ছড়াতে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। টুইটারের হ্যাশট্যাগে যোগ করেছেন, ‘বিজেপি বাংলার বদনাম করছে’।

পরে তিনি রাজ্যপালকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘বিরোধী দল, বিজেপি যে ভাষায় কথা বলছে, আপনার কথায় তারই প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে।’

আরও চড়া সুরে রাজ্যপালকে বিঁধে ডেরেকের মন্তব্য, ‘পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল এখন ভারতীয় জনতা পার্টির মুখপাত্র হয়ে গিয়েছেন৷ রাজভবনে বসে তাঁর প্রধান কাজই হল রাজ্যে বিজেপির আদর্শ প্রচার করা৷’ তাঁর কথায়, ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার মানুষের দ্বারা নির্বাচিত৷ আর রাজ্যপাল হলেন বিজেপির মনোনীত ললিপপ৷’ তৃণমূল মহাসচিব পার্থর টুইট, ‘কেউ যাতে ভুয়ো খবর না-ছড়ায়, সে জন্য লাগাতার চেষ্টা করছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ব্যতিক্রম শুধু মাননীয় রাজ্যপাল।’ দীনেশ ত্রিবেদীর কটাক্ষ, ‘পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল ভুয়ো খবর ছড়াতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ে গিয়েছেন। এ জন্য তাঁর লজ্জিত হওয়া প্রয়োজন।’

রাজ্যপালের বিরুদ্ধে একরাশ অভিযোগ থাকলেও তাঁরা যে এখনই রাষ্ট্রপতির কাছে এ নিয়ে দরবার করতে চাইছেন না, তা-ও অবশ্য স্পষ্ট করেছেন ডেরেক৷ তিনি বলেন, ‘সংবিধান মেনেই রাষ্ট্রপতি রাজ্যপাল নিয়োগ করেন৷ আমরা রাষ্ট্রপতিকে এর মধ্যে টানতে চাই না৷’ তবে আবারও রাজ্যপালের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, ‘এতগুলি লাশ কোথা থেকে এল? ধাপায় পোড়ানো হল না কেন? গড়িয়ার ঘটনা নিয়ে জানতে রাজ্যপাল ফিরহাদ হাকিমকে ডেকেছিলেন। সাংবিধানিক প্রধান হিসাবে রাজ্যপালের এটা জানার অধিকার আছে। ফিরহাদ হাকিমের রাজ্যপালের কাছে যাওয়ার সাহস নেই বলে এড়িয়ে গিয়েছেন।’

অন্য দিকে রাজ্যপালের পাশাপাশি বিজেপির আইটি সেলকে নিশানা করে ডেরেক বলেন, ‘গত দু’দিন ধরে বিজেপি আইটি সেল কলকাতার একটি মর্গে রাখা দেহ নিয়ে মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছিল৷ টুইটার-প্রিয়, শিরোনাম-প্রিয় রাজ্যপাল তা নিয়ে টুইট করেছেন, রাজ্য সরকারকে নিশানা করেছেন, যা একেবারেই কাঙ্ক্ষিত নয়৷ এখন উনি দু’টি শিফটে কাজ করছেন৷ সন্ধ্যায় টিভি চ্যানেলে বক্তব্য রাখছেন, সকালে কফি আর বিস্কুট নিয়ে বসে টুইট করছেন৷ পুরোটাই বিজেপির মতাদর্শ অনুযায়ী৷’ করোনা পরিস্থিতি দেখতে আসা কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল বেলেঘাটা ও এমআর বাঙ্গুর হাসপাতাল ঘুরে পরিকাঠামো ও চিকিৎসা পরিষেবার প্রশংসা করলেও কেন রাজ্যপাল তা নিয়ে নীরব, কেন উত্তরপ্রদেশে আবর্জনার গাড়িতে করোনা আক্রান্তকে নিয়ে যাওয়া হলেও রাজ্যপাল সরব হন না–সে প্রশ্নও তুলেছেন ডেরেক।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

Consumer News In Hindi : ICICI Bank launches 'Idealites Monsoon Magic Bonanza' scheme, will get many offers including discounts and cashback | ICICI बैंक ने लॉन्च की 'आईडिलाइट्स मॉनसून मैजिक बोनांजा' स्कीम, इसमें मिलेंगे डिस्काउंट और कैशबैक सहित कई ऑफर

Sun Jun 14 , 2020
ICICI बैंक Eros Now के सालाना सब्सक्रिप्शन पर 40 और जी5 के सब्सक्रिप्शन प्लांस पर 25% का डिस्काउंट दे रहा है ऑफर में फार्मेसी सेगमेंट में बैंक ने अपोलो अस्पताल के साथ डॉक्टर टेलिकंसल्टेशन पर 10 % का डिस्काउंट मिल रहा है दैनिक भास्कर Jun 14, 2020, 11:44 AM IST […]

You May Like

Breaking News

Recent Posts