হাইলাইটস
- কাশ্মীর এলওসিতে ফের পাক গোলাবর্ষণ
- গত ২৪ ঘণ্টায় দ্বিতীয় বার
- রাজৌরিতে পাক গুলিতে শহিদ এক জওয়ান
- জুন পর্যন্ত ২৪০০ বার সংঘর্ষ বিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে পাকিস্তান
- শহিদ জওয়ানের নাম হাবিলদার সম্বুর গুরুং
- গুলির জবাব গুলিতেই দিচ্ছে ভারত
প্রতিরক্ষা সূত্রে খবর, রাজৌরির নৌশেরা সেক্টরের LoC-তে শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টায় পাক গুলিতে গুরুতর ঘায়েল হন ভারতীয় সেনার হাবিলদার এস গুরুং। পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। সেনা মুখপাত্রের দাবি, রাতে বিনা প্ররোচনায় (unprovoked firing) গুলি ছোড়ে পাকিস্তান। গোলাবর্ষণও করা হয়।
সেনার তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ১০ জুলাই পাকসেনা কোনওরকম উস্কানি ছাড়াই দ্বিপাক্ষিক সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে গুলি ছুড়েছে। যার জেরে হাবিলদার সম্বুর গুরুং শহিদ হন। দেশবাসী তাঁর কর্তব্যের প্রতি নিষ্ঠা ও দেশের জন্য চরম আত্মত্যাগ মনে রাখবে।
চলতি বছরের শুরু থেকেই নিয়মিত সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে চলেছে পাকিস্তান। এখনও পর্যন্ত এলওসি ও জম্মু-কাশ্মীরের আন্তর্জাতিক সীমান্তে ২,৪০০-র বেশি সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। যার প্রভাব পড়েছে জম্মু-কাশ্মীর সীমান্ত লাগোয়া মানুষগুলির জনজীবনে। পাক গুলিতে কেউ স্বজন হারিয়েছেন। কারও ঘর উড়ছে পাকগোলায়। মরেছে গোরুবাছুর। শিকেয় উঠেছে চাষবাস।
২০০৩ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষবিরতি চুক্তি (ceasefire agreement) হয়েছিল। ভারতীয় সেনার একটি রিপোর্ট বলছে, সেই চুক্তির পর থেকে বিগত ১৬ বছরের মধ্যে ২০১৯ সালেই সবথেকে বেশি বার সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করেছে পাকসেনা। পাকিস্তানের (Pakistan) তরফে সবমিলিয়ে ৩,২০০ বার সংঘর্ষবিরতি (ceasefire violations) লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। অর্থাত্ গড়ে প্রতিদিন বার ৯ বার করে লঙ্ঘন হয়েছে।
এখনও পর্যন্ত যে হারে পাকিস্তান সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করে চলেছে, তাতে ২০২০ সালে গত বছরের রেকর্ড ছাপিয়ে যাবে। ২০১৯ সালে অগস্টের পর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ১,৫৬৫ বার সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন হয়েছে। সেখানে জুন শেষ হওয়ার আগেই এ বছর ২,০২৭ বার সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন হয়েছে। জুলাইয়ের শুরুতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৪০০+।ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে, জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ অধিকার খর্ব করার পর থেকেই সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা বাড়িয়েছে পাকিস্তান।
উপত্যকায় এখন কোভিড মোকাবিলায় ব্যস্ত প্রশাসন। সুরক্ষা বাহিনীকেও তাতে শামিল করতে হয়েছে। ইতিমধ্যে কাশ্মীরে কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনীর বেশ কয়েক জন জওয়ানও জখম হয়েছেন। এই কোভিড সংকটের সুযোগে পাকসেনার প্রত্যক্ষ মদতে জঙ্গি অনুপ্রবেশ করিয়ে, কাশ্মীরকে অশান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অতীতেও একাধিকবার বিনাপ্ররোচনায় গোলাগুলি চালিয়ে, ভারতীয় সেনাকে ব্যস্ত রেখে, সেই সুযোগে জঙ্গি ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে পাকিস্তান। এখনও সেই ধারা অব্যাহত।
