স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দেওয়া হিসেব অনুযায়ী, অসমে এখন সক্রিয় করোনা আক্রান্ত রয়েছেন ৭,০৩৯ জন। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন এমন করোনা রোগীর সংখ্যা ১৩,৫৫৪ জন। এর মধ্যে বৃহস্পতিবারই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে সুস্থ হয়ে ওঠা ৬৬৬ আক্রান্তকে।
এ পর্যন্ত করোনায় অসমে মৃত্যু হয়েছে ৫০ জনের। তার মধ্যে বৃহস্পতিবারই মারা গিয়েছেন দু-জন। এর মধ্যে উপেন চন্দ্র শর্মার বাড়ি কামরূপ মেট্রো জেলায়। বিদুল আহমেদ নামে অপর মৃতের বাড়ি বাকসা জেলায়।
এই সংকটের মধ্যে আশার আলো আইটোলিজুমাভ ও রেনডিশিভিয়ার। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আইটোলিজুমাভ ওষুধটি সদ্য জোগাড় করতে পেরেছে অসম। মাত্র ১০০ ভয়েল। প্রতিটির দাম ১০ হাজার। রোগীপ্রতি লাগবে চারটি। আইটোলিজুমাভের প্রয়োগ দেশের মধ্যে অসমেই প্রথম শুরু হতে চলেছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, ৬৫ জন করোনা রোগীর উপরে রেনডিশিভিয়ার ব্যবহার করা হয়েছিল। মারা গিয়েছেন মাত্র ৪ জন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জোর দিয়েছেন প্লাজমা দানে। তিনি বলেন, উপসর্গ-সহ আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ হওয়ার পরে, দয়া করে প্লাজমা দান করুন। একজনের প্লাজমা দু-জনের জীবন বাঁচাতে পারে।
অসমে কোভিডে আক্রান্ত হওয়া তিন চিকিৎসক লিথিকেশ, যুগান্ত রয়, সিদ্ধার্থ নন্দী-সহ পাঁচ জন প্লাজমা দিয়েছেন। প্লাজমা দিলে সার্টিফিকেট ও কার্ড দেওয়া হবে। সেই কার্ড দেখিয়ে গরিবরা আবাস যোজনায় সবার আগে বাড়ি পাবেন। চাকরির পরীক্ষায় অতিরিক্ত নম্বর দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী। দিল্লির পর অসমও প্লাজমা ব্যাংক তৈরি করেছে।
এদিকে, আরও একটি অনন্য নজিরও গড়ে ফেলেছে অসম। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৬ লক্ষের বেশি কোভিড টেস্ট সম্পন্ন করেছে। এ জন্য স্বাস্থ্য দফতরের কর্মীদের প্রশংসা করেন হিমন্ত।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৫৬ হাজার ১০১ টেস্ট হয়েছে জোরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হয়েছে ৪৭ হাজার ৪৪৪ টেস্ট। গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হয়েছে আরও ৫৮ হাজার ২৬৩ টেস্ট। অসম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে টেস্ট হয়েছে ৩৪ হাজার ৯৬টি। তেজপুর মেডিক্যাল কলেজে ৪৭,৪০৪, এফএএ মেডিক্যাল কলেজে ৬১,৭৫৭ এবং রিজিওন্যাল মেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টারে ৫৪ হাজার ৩৫৭ টেস্ট হয়েছে।
ইনস্টিটিউট অফ অ্যাডভান্সড স্টাডিজ ইন সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (আইএএসএসটি) ১৯,৮৩২টি পরীক্ষা করেছে। গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ল্যাব ১৪,৮৩২টি পরীক্ষা করেছে। ডিফু মেডিক্যাল কলেজ ১৪,৭৫৮টি পরীক্ষা করেছে। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) ৭,৭৩৯টি পরীক্ষা করেছে।
এ ছাড়া নর্থ-ইস্ট ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সে ৮,১৯৭টি টেস্ট হয়েছে। MMCH ল্যাবে টেস্ট হয়েছে ১,৯৯০চি নমুনা। ওয়ার্ড স্ক্রিনিং সেন্টারগুলি দু-দফায় ১৯, ৮৩৪ এবং ১,৫৪,৭৮১টি টেস্ট করেছে।