bjp mla debendra nath roy’s death: দেবেন্দ্রনাথ রায়ের মৃত্যু আসলে রাজ্য বিধানসভার সম্মানহানি করল! – in depth analysis on bjp mla debendra nath roy’s death and west bengal assembly

হাইলাইটস

  • ১৩ জুলাই সকালে উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদের বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়ের ঝুলন্ত দেহ পাওয়া যায় তাঁরই বাড়ি থেকে একটু দূরে একটি দোকানের সামনে।
  • ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পরে দলবদলের হিড়িকে আরও কয়েকজন তৃণমূল ও কংগ্রেস বিধায়কের সঙ্গে গিয়ে বিজেপিতে যোগদান করেছিলেন দেবেন্দ্রনাথ।
  • কিন্তু আলোচনার বিষয় সেটা নয়। মূল আলোচনার বিষয় হল, দেবেন্দ্রনাথ রায় বিজেপির বিধায়ক হলেন কবে?

সম্বিত পাল

দেবেন্দ্রনাথ রায় নাকি বিজেপির বিধায়ক! উত্তরবঙ্গের এই রাজনীতিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর পরেও এই দাবিটি অত্যন্ত হাস্যকর লাগল। তার থেকেও বড় কথা বিধায়কের মৃত্যু রাজ্য বিধানসভার দেউলিয়াপনাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।

১৩ জুলাই সকালে উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদের বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়ের ঝুলন্ত দেহ পাওয়া যায় তাঁরই বাড়ি থেকে একটু দূরে একটি দোকানের সামনে। তার পর থেকে রাজনৈতিক চাপান উতোর। বিজেপি নেতাদের ক্ষোভ-বিক্ষোভ। প্রতিবাদ মিছিল। শাসক দলের প্রতি-বক্তব্য। উত্তরবঙ্গ বনধ পর্যন্ত হয়ে গেল এই বিধায়কের মৃত্যুতে।

রাজ্য পুলিশের সিআইডির হাতে তদন্তভার দেওয়ার পরে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে এটিকে আত্মহত্যার ঘটনা বলে দাবি করা হয়েছে। তবে বিধায়কের স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে খুনের মামলায় রুজু করেছে পুলিশ। এর সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের যোগসূত্র পাওয়া গেলেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সূত্র পাওয়া যায়নি এখনও পর্যন্ত।

কিন্তু আলোচনার বিষয় সেটা নয়। মূল আলোচনার বিষয় হল, দেবেন্দ্রনাথ রায় বিজেপির বিধায়ক হলেন কবে? ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হেমতাবাদ কেন্দ্র থেকে বাম-কংগ্রেস জোট প্রার্থী হিসেবে সিপিআইএম-এর টিকিটে জয়লাভ করেছিলেন। এই লেখার সময় পর্যন্ত রাজ্য বিধানসভার ওয়েবসাইটে তাঁকে সিপিআইএম-এর বিধায়ক বলেই চিহ্নিত করা রয়েছে। সেটাই স্বাভাবিক।

কারণ ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পরে দলবদলের হিড়িকে আরও কয়েকজন তৃণমূল ও কংগ্রেস বিধায়কের সঙ্গে গিয়ে বিজেপিতে যোগদান করেছিলেন দেবেন্দ্রনাথ। তার মানেই এই নয়, যে তিনি বিজেপি বিধায়ক হয়ে গেলেন।

দলত্যাগ বিরোধী আইনে বলা রয়েছে যে, যদি রাজ্য বা দেশের আইনসভার কোনও সদস্য স্বেচ্ছায় তাঁর দলীয় সদস্যপদ ছেড়ে দেন বা আইনসভার ভিতরে কোনও ইস্যুতে দলীয় নির্দেশ (বা হুইপ) অমান্য করে তার বিরুদ্ধে ভোট দেন তাহলে তার সদস্যপদ বাতিল হতে পারে।

কে সেই সদস্যপদ বাতিল করতে পারেন? বিধানসভা বা লোকসভার ক্ষেত্রে স্পিকার ও রাজ্যসভার ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান। তবে সেই বিধায়ক বা সাংসদের সদস্যপদ বাতিলের জন্য সেই বিধানসভা বা লোকসভা বা রাজ্যসভার কোনও সদস্যকে আবেদন করতে হবে। তার শুনানি হবে এবং তার পরে রায় জানাবেন স্পিকার বা চেয়ারম্যান।

দলত্যাগ করলেও বাঁচার পথ রয়েছে এই আইনেই। যদি কোনও দল অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে পুরোপুরি মিশে যায় বা সেই দলের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ নির্বাচিত সদস্য যদি অন্য দলে যোগ দেন তাহলে তাঁরা বিধায়ক বা সাংসদ থাকতে পারেন। যাঁরা যোগ দিলেন তাঁরাও থাকতে পারেন, যাঁরা যোগ দিলেন না তাঁরাও সংসদ বা বিধানসভার সদস্য থাকতে পারেন।

এই আইনেই দেবেন্দ্রনাথের বিধায়ক পদটি খারিজ হওয়ার কথা অনেকদিন আগেই।

কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ২০১১ সাল থেকেই একটি সংস্কৃতি চালু হয়ে গেছে। অন্য দলের রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে সেই দলে যোগদানের কথা সর্বসমক্ষে ঘোষণা করা হলেও এখানে বিধায়কেরা নিজেদের পদ আঁকড়ে বসে থাকতে পারেন।
বর্তমান শাসকদল এই সংস্কৃতি চালু করে এমনই বিপদে পড়েছে যে এখন তাদের দলের বিধায়কেরা অন্য দলে যোগ দিলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিতে পারে না তারা।

কাজেই মিলিজুলি বোঝাপড়ায় দলত্যাগ বিরোধী আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বেশ চলছে। এই বিধানসভার বেশ কয়েকজন নির্বাচিত সদস্য কে কোন দলের বিধায়ক আর কোন দলের সদস্য তা নিয়ে ধোঁয়াশা জিইয়ে রেখেছেন। এ নিয়ে বিধানসভার সদস্যদের আবেদনের শুনানি কখনও হয়, কখনও হয় না। চূড়ান্ত রায় আর দেওয়া হয় না।

এক দলের টিকিটে জনগণের রায় নিয়ে এসে অন্য দলে যোগ দেওয়াটা জলভাত হয়ে গেছে এই রাজ্যে। আইনের ফাঁক গলে এই কাজ চলতে থাকলেও, নৈতিকতার কথা একবারও ভাবেন না এই বিধায়কেরা। রাজনৈতিক দলগুলি তো নয়ই।

তাই খাতায় কলমে সিপিআইএম বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর বামেরা নয়, তাঁকে নিয়ে হল্লা করে বিজেপি। তাঁর মৃত্যু হত্যা না আত্মহত্যা তার তদন্ত তো সিআইডি করবে। কিন্তু তাঁর মৃত্যু যে রাজ্য বিধানসভা ও আইনের সম্মানহানির ঘটনা আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, তার বিচার কে করবে?

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

बंगाल में बुरी ताकतों को नहीं घुसने दूंगा : अभिषेक बनर्जी

Sat Jul 18 , 2020
कोलकाता। मुख्यमंत्री ममता बनर्जी के सांसद भतीजे अभिषेक बनर्जी ने भाजपा को चेतावनी देते हुए कहा है कि वह कभी भी पार्टी का जनाधार बंगाल में नहीं बनने देंगे। अभिषेक तृणमूल युवा के अध्यक्ष हैं। संगठन की ओर से आयोजित वर्चुअल रैली को संबोधित करते हुए बनर्जी ने बिना नाम […]

You May Like

Breaking News

Recent Posts