হাইলাইটস
- ২০০ জনকে ঠকিয়ে হায়দরাবাদ পুলিশের জালে প্লাজমা প্রতারক
- সোশ্যাল মিডিয়ায় জাল বিছিয়ে রোগীর পরিবারের সঙ্গে আলাপ জমাত ফোনে
- প্লাজমা দান করার কথা বলে টাকা দাবি করত
- অনলাইনে টাকা তার অ্যাকাউন্টে জমা হলেই এড়িয়ে যেত সে
হায়দরাবাদ পুলিশ কমিশনারের তৈরি টাস্ক ফোর্স সোমবার ওই ঠগকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্লাজমা প্রতারণায় যুক্তের নাম সন্দীপ। বয়স পঁচিশের আশপাশে। বাড়ি অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীকাকুলাম জেলার রাজামে। হায়দরাবাদ পুলিশের দাবি অনুযায়ী, সন্দীপ দু’শোর বেশি লোককে ঠকিয়েছে।
এই কোভিড সংকটে প্লাজমা ডোনারের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, তা প্রতারকের অজানা ছিল না। সে এ-ও জানত বাজারে কোভিডের অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধের টান আছে। এই দু’টি বিষয় মাথায় রেখে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলিতে শিকারের জন্য জাল বিছোতে থাকে সে। সেই ফাঁদে একে একে ২০০-র বেশি রোগীর স্বজন পা দেয়। শিকার ঠিক করে, ফোন নম্বর জোগাড় করে নিত। এর পর সরাসরি ফোন। প্রত্যেকের কাছে নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে সে জানিয়েছে, তারও কোভিড হয়েছিল। প্রাণঘাতী ভাইরাসের মৃত্যুমুখ থেকে ফিরে এসেছে। এর পরই সংকটাপন্ন করোনা (Coronavirus) রোগীর জন্য প্লাজমা দানে আগ্রহ প্রকাশ করত। এই বাজারে হাতের কাছে প্লাজমা দাতাকে পেয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার মতো লোক পাওয়া দুষ্কর। ফলে, প্রায় প্রত্যেকেই সেই টোপ গিলে সন্দীপের শিকারের জালে ধরা দেয়। আবার প্রতারিতদের মধ্যে কাউকে কাউকে বলেছিল, সে ওষুধ বিক্রেতা। করোনার অ্যান্টি-ভাইরাস জরুরি মেডিসিন তার কাছে পাওয়া যাবে।
প্রতারক সন্দীপ…
ফোনে আস্থা অর্জনে যতক্ষণ। এর পর পার্টি রাজি হলে, যাতায়াতের খরচের কথা বলে অ্যাপের মাধ্যমে টাকা ট্রান্সফার করতে বলত। অনলাইনে অ্যাকাউন্টে একবার টাকা ঢুকে গেলেই ওই ব্যক্তিকে এড়িয়ে যেত সে। তখন সে ফোনে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
অভিযুক্তকে জেরা করে পুলিশ জানতে পারে, সে স্নাতক উত্তীর্ণ। কম্পিউটার হার্ডওয়ার নেটওয়ার্কিং কোর্সও সে করেছে। হায়দরাবাদ পুলিশ জানিয়েছে, কোভিড (Covid-19) সংকটকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণা শুরু করলেও, অপরাধ জগতে হাতেখড়ি আরও আগে। দু-দুটো চুরির দায়ে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে ছিল। ছাড়া পেয়েই প্লাজমা নিয়ে প্রতারণা শুরু করে।
