Vikas Dubeys Wife: ‘পুলিশ বিকাশকে ব্যবহার করেছে, খুন করেছে’! মুখ খুললেন বিকাশ দুবের স্ত্রী – vikas dubey’s wife breaks silence, says cops used and killed him

এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: কানপুর পুলিশের এনকাউন্টারে উত্তরপ্রদেশের ওয়ান্টেড গ্যাংস্টার বিকাশ দুবের মৃত্যুর ১১দিন কেটে গিয়েছে। মৃত্যুর পর পুলিশের ভূমিকা ও বিকাশ দুবের অপরাধ জগত নিয়ে দেশজুড়ে তরজা চললেও, স্বামীর সততা ও দেশের আইনের প্রতি ভরসা রেখেছেন গ্যাংস্টার বিকাশ দুবের স্ত্রী রিচা। এই প্রথম স্বামীর এনকাউন্টার প্রসঙ্গে মুখ খুললেন তিনি।

লখনউয়ের কৃষ্ণনগরের বাড়িতে তাঁর সঙ্গে এক সাংবাদিক কথা বলতে গিয়ে বিকাশ দুবে প্রসঙ্গে নানান কথা বলেছেন রিচা। কানপুরের বিকরু গ্রামে আট জন পুলিশকে নির্মম হত্যা, বিকাশ দুবের এনকাউন্টার প্রসঙ্গ, মানুষ হিসেবে বিকাশ কেমন ছিলেন, সবকিছই অকপট উত্তর দিয়েছেন তিনি। কখনও কান্নায় ভেঙে পড়েছেন, কখনও স্বামীর কাজে শ্রদ্ধা জানিয়ে অগ্নিকন্যা হয়ে গিয়েছেন।

এনকাউন্টারে বিকাশ দুবের মৃত্যুর তদন্তে কমিশন গঠন UP সরকারের

২ জুলাই রাতে কানপুরের বিকরু গ্রামে আট জন পুলিশকে মারার পর থেকে বেপাত্তা ডনকে বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীর মহাকাল মন্দির থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ প্রসঙ্গে রিচা জানিয়েছেন, সেদিন রাত ২টো নাগাদ, আমার স্বামী আমাকে ফোন করেন। বিকরুতে কয়েকজন মারা গেছে, তাই তখনই লখনউয়ের বাড়ি থেকে পালিয়ে যেতে বলেন আমাদের। সেদিন রাতের কথা এখনও দুঃস্বপ্নের মতো আমার চোখের সামনে ভাসে। ওই রাতে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে তো পড়ি। কিন্তু কোনও বন্ধুই আমাকে আশ্রয় দিতে রাজি ছিলেন না। আশ্রয় না পাওয়া পর্যন্ত শুধু দৌড় দিই। ওই শেষ কথা আমাদের। তারপর ভোরে টিভিচে বিকরুর ঘটনার আপডেট পাই। তবে, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ করার আগে পর্যন্ত কোথায় লুকিয়ে ছিলেন, তা প্রকাশ্যে আনেনি তিনি।

বিকাশ দুবেকে এনকাউন্টার করার পিছনে পুলিশের একাংশে দায়ী বলে মনে করেন তিনি। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তাঁর ক্ষোভ উগড়ে তিনি জানিয়েছেন, অতিমারীর জেরে দেশে যখন কড়া লকডাউন, তখন বিকরুর বাড়িতে পুলিশকর্মীরা দুপুরের খাবার, রাতের খাবার খেতেন। শুধু তাই নয় এক একবার তো রাতের সময়েই ওই বাড়িতে থেকে যেতেন অনেকে। পুলিশকর্মীরা তাঁকে একধারে ব্যবহার করেছেন, তারপর তাঁকে ধবংস করে দিয়েছে। দেশের আইনের প্রতি আমার সম্পূর্ণ ভরসা আছে। এর শেষ কোথায় হয়, এখন সেটাই দেখার।

বিকাশকে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়, কিন্তু সে গুলি ছুড়ে পালাচ্ছিল: পুলিশ

এনকাউন্টারের দিন বিকাশের মৃত্যু কীভাবে হয়, সে ব্যাপারে পুলিশ জানিয়েছিল, মধ্যপ্রদেশ থেকে গ্রেফতার করার পর বিকাশকে নিয়ে আসা হচ্ছিল কানপুরে। শুক্রবার সকালে তিনটি পুলিশের গাড়ির মধ্যে একটি হাইওয়ের উপর দুর্ঘটনায় উলটে যায়। যে গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে, তাতেই ছিল বিকাশ। দুর্ঘটনার পর সে পালানোর চেষ্টা করলে এনকাউন্টার শুরু হয়। পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় তার। কানপুর পুলিশ বিবৃতিতে জানায়, ‘গাড়িটা উলটে গিয়েছিল। অভিযুক্ত ও পুলিশকর্মীরা আহত হন। তখন আহত এক পুলিশকর্মীর থেকে বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে দৌড়ে পালাতে চেষ্টা করে বিকাশ। পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে তাকে ঘিরে ফেলে। বিকাশকে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু সে তাতে রাজি না-হয়ে গুলি চালাতে শুরু করে। আত্মরক্ষায় পালটা গুলি চালাতে বাধ্য হয় পুলিশ।’

কানপুরে পালাতে গিয়ে এনকাউন্টারে মৃত ধৃত গ্যাংস্টার বিকাশ দুবে

প্রসহ্গত, উত্তরপ্রদেশের গ্যাংস্টার বিকাশ দুবের এনকাউন্টারের তদন্তে কমিশন গঠন করেছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। এক সদস্যের এক স্বাধীন কমিশন গঠন করা হয়েছে, যেটি এনকাউন্টারে বিকাশ দুবের মৃত্যুর ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দু মাসের মধ্যে রিপোর্ট পেশ করবে কমিশন।

সকলের কাছে ক্রিমিনাল হিসেবে পরিচিত হলেও পরিবারের কাছে তিনি এক অন্য মানুষ হিসেবে বিরাজ করতেন। গ্যাংস্টার হলেও, তাঁর মনের মধ্যেও ছিল ছোট্ট নরম দিক। ‘তিনি ক্রিমিনাল হতে পারেন, কিন্তু স্বামী ও বাবা হিসেবে তিনি ছিলেন স্নেহশীল। দুই সন্তানকে নিজের প্রাণের থেকেও ভালোবাসতেন। প্রতি মাসে আমরা ৪০ হাজার টাকার নানান জিনিসপত্র উপহার পেতাম। আমার বড় ছেলে শান্তনু রাশিয়াতে মেডিসিন নিয়ে পড়াশোনা করছে। ছোট ছেলে এ বছর দ্বাদশ শ্রেনিতে ৯০ শতাংশ নম্বর পেয়েছে। বিকাশ দুবে মারা গিয়েছে, কিন্তু আমার আশা এখনও বেঁচে আছে।’

বিকাশ দুবের এনকাউন্টার বলিউড ফিল্ম নাকি? আমরা এটা এক্সপেক্ট করিনি!’

মৃত্যুর পর ভাঙা হৃদয়ে এখন ডনের সঙ্গে সুন্দর সুন্দর মুহূর্তগুলোই চোখের সামনে ভেসে উঠছে তাঁর। ১৯৯০ সালে বিকাশের সঙ্গে প্রথম দেখা হয় রিচার। তিনি জানিয়েছেন, আমার ভাই, রাজু নিগম, দুবের খুব ভালো বন্ধু। আমার ভাই-ই আমাদের দুজেনর বিয়ে দেয়। বিয়ের পর গ্রাম প্রধান হিসেবে কাজ শুরু করে। গ্রামে যেকোনও সমস্যার সমাধানের একমাত্র মুখ ছিল বিকাশ। বিকরু গ্রামে শেষ কথা ছিল বিকাশ দুবে। এমনটাই ওই সাংবাদিককে জানিয়েছেন গ্যাংস্টারের স্ত্রী।

অপরাধ জগতে প্রবেশ করতেই আমরা সিদ্ধান্ত নিই, বিকরু ছেড়ে লখনউতে বাড়ি করব। ২০০৪ সালে সেই বাড়িতে আমরা চলে আসি। সেখানেই নোংরা জগতকে দূরে রেখে সন্তানরা বড় হতে শুরু করে। বিকাশ সবসময় চাইত, তাঁর সন্তানরা বালো করে পড়াশোনা করে জীবনে প্রতিষ্টিত হোক। এ কথা বলতেই বলতেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

পুলিশের এনকাউন্টারে মৃত্যুর পর ছেলের মুখ দেখতে অস্বীকার করেন বিকাশের বাবা-মা। শাশুড়ি সরলা দেবীর সঙ্গে সম্পর্ক কোনও দিনই ভালো ছিল না ছেলে-বৌমার। কিন্তু মা-বাবা স্বাস্থ্যের কথা বারবার বাবা বিকাশকে।

গুলিতে জখম হয়ে বিকাশকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিত্‍সাধীন অবস্থাতেই মারা যায় বিকাশ। মৃত্যুর পর পরিবারের তরফে তাঁর স্ত্রী ও স্ত্রীর ভাই শ্মশানঘাটে এসেছিলেন। গঙ্গার তীরে, ভৈরবঘাটে বিকাশের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। উপস্থিত ছিল বেশ কিছু সাংবাদিকরাও। তাঁরে উদ্দেশ্যে রিচা বলে উঠেছিল, দরকার পড়লে তিনিও হাতে বন্দুক তুলে নেবেন।

খবরটি ইংরেজিতে পড়তে ক্লিক করুন এখানে…

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

10 Factors Affect Alzheimer's Disease Risk

Wed Jul 22 , 2020
TUESDAY, July 21, 2020 Ten risk factors may affect your risk of developing Alzheimer’s disease, a new Chinese study suggests. Focusing on these factors could help doctors develop guidelines for preventing Alzheimer’s, researchers say. The risk factors include mental activity, obesity in late life, depression, diabetes and high blood pressure. […]

You May Like

Breaking News

Recent Posts