সুশান্তের ওষুধের বিষয়টি জানা গুরুত্বপূ্র্ণ। এক দিকে রিয়ার আইনজীবী সোমবার জানিয়েছেন, অভিনেতার চিকিৎসকেরা যে প্রেসক্রিপশন দিয়েছিলেন তার পরিবর্তে দিদি প্রিয়াঙ্কা সিংয়ের পরামর্শমতো ওষুধ খেতে চাইলে তুমুল ঝগড়া হয় রিয়া ও সুশান্তের মধ্যে। সে কারণেই ৮ জুন বাড়ি ছেড়ে চলে যান রিয়া। কিন্তু সে দাবি সত্যি হলে সুশান্তের পরিবার যে তাঁর মানসিক সমস্যার কথা জানত না, এ দাবি ধোঁপে টেকে না। অন্য দিকে, সুশান্তের বাবার আইনজীবী বিকাশ সিংয়ের বক্তব্য, ‘ওঁরা জানতেন ছেলের অ্যাংজাইটি সংক্রান্ত সমস্যা ছিল। কিন্তু মানসিক অসুস্থতা রয়েছে তা জানতেন না।’ এ দিকে সংবাদমাধ্যমের একাংশের দাবি, প্রয়াত তারকার প্রাক্তন হাউস ম্যানেজার স্যামুয়েল মিরান্ডা জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন জানিয়েছেন, সুশান্তকে চাঙ্গা করতে ফ্ল্যাটে প্রায়ই পার্টি রাখতেন রিয়া। কিন্তু বহু সময়েই তাতে যোগ দিতেন না অভিনেতা। দিনের পর দিন অঝোরে কান্নাকাটি করতেন।
মঙ্গলবার অভিনেতার গাড়িচালককেও জিজ্ঞাসাবাদ করে সিবিআই। আবার তাঁর আর্থিক হেরাফেরি সংক্রান্ত মামলায় গোয়ার হোটেল ব্যবসায়ী ও মাদক-কাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজন গৌরব আরিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এ দিনই মাদক-সরবরাহকারী সন্দেহে আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করে নার্কোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো। সূত্রের খবর, তাদের এক জন বলিউড-যোগের কথা মেনেও নিয়েছেন। সুশান্তের প্রাক্তন ম্যানেজার শ্রুতি মোদীর আইনজীবী অবশ্য এ ব্যাপারে ইমতিয়াজ খাতরি নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সন্দেহের আঙুল তোলেন। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল। আপাতত সুশান্তের অটপ্সি ও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট নিয়ে এইমস-এর ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের মতামতদের দিকে তাকিয়ে সিবিআই। কারণ অপরাধের মুহূর্ত পুনর্নির্মাণ, সংগৃহীত বাকি প্রমাণ বিশ্লেষণ ও সন্দেহভাজনদের কড়া জিজ্ঞাসাবাদের পরও এমন কিছু মেলেনি যাতে মনে হয় সুশান্তকে খুন করা হয়েছে।
অপরাধ প্রমাণের আগেই রিয়াকে যে ভাবে খলনায়িকা বানানো হয়েছে তার বিরুদ্ধে এ দিন সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হন বিদ্যা বালন। লেখেন, ‘অপরাধ প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত তো এক জনকে নিরপরাধ-ই ধরা হয়। নাকি এখন নিরপরাধ প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত মেনে নেওয়া হচ্ছে যে তিনি অপরাধী?’
