coronavirus: বেরিয়ে গিয়েছে শেষ সঞ্চয় ৪ লাখ, লকডাউনে ক্ষুধার্ত ১৫০০ জনকে খাওয়াচ্ছেন দম্পতি – mumbai: couple exhausts rs 4 lakh savings to feed 1,500

হাইলাইটস

  • প্রায় ১৫০০ পেট চালাতে গিয়ে শেষ হয়ে গিয়েছে তাঁদের জমানো ৪ লাখ টাকা।
  • তাতে অবশ্য কোনও আক্ষেপ নেই প্রিন্সিপাল ম্যাডাম ও তাঁর স্বামীর।
  • বরং এই অসময়ে দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে পেরে তাঁরা তৃপ্ত।

এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: বাচ্চারা স্কুলের প্রিন্সিপালকে বলেছিল, তারা এই লকডাউনের সময় স্কুলের ফিজ দিতে পারছে না। সেই শুনে তাদের তিন মাসের ফিস মকুব করে দিয়েছিলেন প্রিন্সিপাল। তবে তিনি যখন জানতে পারেন যে তাঁর স্কুলে ছেলেমেয়েদের পেটে দু বেলা দু মুঠো ভাতই জুটছে না, তখন বিচলিত হয়ে ওঠেন তিনি। কথা বলেন স্বামীর সঙ্গে। তারপর তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন প্রতিবেশীদের হাতে বিনামূল্যে রেশন তুলে দেবেন। প্রায় ১৫০০ পেট চালাতে গিয়ে শেষ হয়ে গিয়েছে তাঁদের জমানো ৪ লাখ টাকা। তাতে অবশ্য কোনও আক্ষেপ নেই প্রিন্সিপাল ম্যাডাম ও তাঁর স্বামীর। বরং এই অসময়ে দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে পেরে তাঁরা তৃপ্ত।

মুম্বইয়ের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা অম্বুজওয়াড়ির মালওয়ানিতে রয়েছে স্কুলটি। সেখানকার প্রিন্সিপাল মিজগা শেখ ও তাঁর স্বামী ফৈয়াজ এখন রেশন বিলি করতেই ব্যস্ত। বাড়ি কেনার জন্য তাঁরা একটু একটু করে ৪ লাখ টাকা জমিয়েছিলেন। সেই টাকা ভেঙেই ১৫০০ মানুষের মুখে অন্ন তুলে দিয়েছেন এই দম্পতি।

৩৮ বছরের প্রিন্সিপাল জানালেন, ‘অম্বুজওয়াড়ির মানুষদের উপর খুবই কঠিন প্রভাব ফেলেছে লকডাউন। এখানকার বেশিরভাগই দিনমজুর। যখন আচমকা ক্লাস বন্ধ হয়ে গেল, অন্যান্য জায়গায় অনলাইন ক্লাস শুরু হয়েছে। আমরাও ভাবি তাই করব। তবে ছাত্রছাত্রীরা জানান, তাঁদের বাড়িয়ে একটাই মোবাইল ফোন। আর বাবা বা মা অন্য কাজের সন্ধানে বাড়ির বাইরে গেলে সেই ফোন সঙ্গে করেই নিয়ে যান। তবুও আমরা জুমে একদল ছাত্রছাত্রীকে বসিয়ে ক্লাস নেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু বাবা-মায়েদের বই কেনারও টাকা নেই। তখন অশিক্ষককর্মীদের সঙ্গে কথা বলে আমি ছাত্রছাত্রীদের তিন মাসের ফিজ মকুব করার সিদ্ধান্ত নিই।’

দেশে একদিনে ফের করোনার রেকর্ড সংক্রমণ! আক্রান্ত ৪৯০০০+, মৃত আরও ৭৪০

মাত্র পাঁচ ঘর নিয়ে চলা ওই স্কুল এখনও সরকারের অনুমোদন পায়নি। সে ভাবেই প্রায় এক দশক ধরে স্কুলটা চালিয়ে যাচ্ছেন মিজগা। তিনি যখন জানতে পারলেন, তাঁর স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের বাবা-মা অর্থ জোগার করতে গিয়ে নাকানি চোবানি খাচ্ছেন, তখনই তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। আত্মীয়-স্বজন বন্ধুবান্ধবদের কাছ থেকে টাকাও সংগ্রহ করতে শুরু করেন। এরপর সেই টাকা ও তাঁদের জমানো অর্থের বিনিময়ে চাল, ডাল, তেল কিনে গরিবদের মধ্যে বিলি করতে শুরু করেন।

৪৫ বছরের ফৈয়াজ জানিয়েছেন, ‘লকডাউনের সময় প্রথম দিকে আমরা রেশন কিনে ক্লাসরুমেই জমাতাম। পরে এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়।’ এই কাজে প্রচুর সময় বেরিয়ে যাচ্ছে। নিজেদের ১৩ বছরের কন্যা ও ১০ বছরের পুত্রকেও ঠিকমতো সময় দিতে পারছেন না দম্পতি। তবে এই সব কারণে মানুষের পাশে দাঁড়ানো থেকে তাঁরা সরে আসেননি।

এলাকায় সাহায্য পাওয়া এক মহিলা বললেন, ‘আমি একজন পরিচারিকা। স্বামী মদ্যপ। লকডাউনের সময় আমি কারও বাড়ি কাজে যেতে পারিনি। অনাহারে দিন কাটছিল। শেখ চার মাসে ৬-৭ বার করে খাবার দিয়ে না-গেলে অনাহারে হয়তো মারাই যেতাম।’

খবরটি ইংরেজিতে পড়ুন

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

Toxic Lead Fallout From Notre Dame Fire May Be Worse Than Thought

Fri Jul 24 , 2020
WEDNESDAY, July 22, 2020 (HealthDay News) A ton of dangerous lead dust may have been deposited around Notre Dame cathedral in Paris when it burned in April 2019 — far more than had been estimated, a new study suggests. The cathedral’s roof and spire were covered in 460 tons of […]

You May Like

Breaking News

Recent Posts