নতুন করে আরও ১৫ জন করোনায় আক্রান্ত পূর্ব বর্ধমানে। জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৬৭৫। মঙ্গলবারের রিপোর্ট অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় কারও মৃত্যু হয়নি করোনায়। এদিন সবথেকে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে কাটোয়া পুরসভা এলাকায়। জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এখন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৬৭৫ জন। সুস্থ হয়েছেন ৪৫১ জন।
অগস্ট জুড়ে গোটা রাজ্যে সাপ্তাহিক সার্বিক লকডাউন চালানো হবে। মঙ্গলবার নবান্নে কোভিড-পরিস্থিতি পর্যালোচনার পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রাথমিক ভাবে অগস্টে ন’দিন পূর্ণ লকডাউন ঘোষণা করলেও রাতে তা থেকে দু’দিন কমিয়ে দেওয়া হয়। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়, ধর্মীয় উৎসব এবং বিশেষ দিবস উপলক্ষে দু’টি দিন পূর্ণ লকডাউন ঘোষণা না-করার আবেদন জানানো হয়েছিল বিভিন্ন মহলের তরফে।
রাজ্য সরকার এ দিন জানিয়েছে, সাপ্তাহিক লকডাউনে শনি এবং রবিবারে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। যদিও পরে দু’টি রবিবার পূর্ণ লকডাউনের আওতা থেকে বাদ দেওয়া হয়। প্রশাসনের একাংশের মতে, সপ্তাহান্তে লকডাউন হলে দৈনিক রুজি-রুটি জোগাড়ের কাজে অসুবিধা হবে না। আবার সপ্তাহান্তে অকারণে বাইরে বেরোনোর হিড়িকও কমবে।
মনোবলে হয়তো ধাক্কা লাগেনি পুলিশের। কিন্তু করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যাঁদের সামনের সারিতে থেকে লড়াই করতে হচ্ছে, সেই পুলিশবাহিনীতেই যে ভাবে সংক্রমণের হার লাফিয়ে বাড়ছে, তাতে লোকবল অনেকটাই ধাক্কা খাচ্ছে, সন্দেহ নেই। কলকাতা পুলিশে মঙ্গলবারই ৪২ জনের কোভিড পজিটিভ ধরা পড়েছে। এ নিয়ে কলকাতা পুলিশে সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ১১০০ ছুঁইছুঁই। স্বস্তিতে নেই বিধাননগর, ব্যারাকপুরের মতো ব্যস্ত কমিশনারেটের অন্তর্গত থানাগুলি।
বেহালার পর প্রগতি ময়দান। করোনায় আক্রান্ত, আইসোলেশনে থাকা এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর, দেহ সৎকার ঘিরে চূড়ান্ত ভোগান্তির শিকার হতে হল পরিবারকে। এ ক্ষেত্রেও আট ঘণ্টার বেশি সময় দেহ বাড়িতে পড়ে থাকে বলে অভিযোগ। চায়না টাউনের বাসিন্দা, বছর পঁয়ষট্টির ওই ব্যক্তির পরিবার আদতে চিনের বাসিন্দা। দিনকয়েক আগে বৃদ্ধ করোনায় আক্রান্ত হন। বাড়িতেই আইসোলেশনে ছিলেন তিনি। কিন্ত মঙ্গলবার ভোররাতে অবস্থার অবনতি হয়। ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ বাড়িতেই মারা যান তিনি। এরপর দেহ সৎকারের জন্য স্বাস্থ্য দপ্তর, পুরসভার সঙ্গে যোগাযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা।
করোনা আক্রান্ত মানুষের পাশে এগিয়ে যাচ্ছে না সাহায্যের হাত। অসহায় এমন বহু রোগীর দেখা মিলছে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায়। এমন পরিস্থিতিতে কুলটির শ্রীপুরে দেখা গেল উল্টো ছবি। এখানে আক্রান্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন মানুষ। আবার প্রশাসনের কোনও উদ্যোগ না দেখে কুলটির সবচেয়ে বড় শ্রীপুর বাজার ৩ দিন বন্ধের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন তাঁরা নিজেরাই।
