Kolkata fire: ভয় নেই, উদ্ধার করতে আসছি! কলকাতায় আগুনে আটক প্রৌঢ়কে দু’ঘণ্টার ফোনকলে ভরসা SI-এর – kolkata don’t be afraid, i’m coming to the rescue, si called up man who was in danger at building where fire broke out

এই সময়: দাউ দাউ করে তখন আগুন জ্বলছে বিল্ডিংয়ের একাংশে। ধোঁয়ায় ভর্তি গোটা বাড়ি। ধোঁয়া ও আগুনের দাপট এতটাই বেশি যে, কিছুতেই ভিতরে প্রবেশ করা ঢোকা যাচ্ছে না। আগুন ক্রমেই তেতলা থেকে উপর দিকে উঠছে। সোমবার বিকেল। ঘটনাস্থল চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউয়ের পোলক স্ট্রিটের একটি পাঁচতলা বাড়ি। আগুন লাগে তেতলার একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে।

কী ভাবে ওই বাড়িতে ঢুকে আগুনের উৎসস্থলে পৌঁছনো যায়, সেই চিন্তায় ব্যস্ত দমকল। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ বাহিনীও। এর মধ্যেই দমকল ও পুলিশ বাহিনীর কানে পৌঁছল এক জনের আর্তনাদ, ‘আমাকে বাঁচান। বেরোতে পারছি না!’

এলাকার লোকজন জানালেন, সাহায্যপ্রার্থী ওই ব্যক্তি গোপালবন্ধু দাস। তিনি বিল্ডিংয়ের লিফ্‌ট ম্যান। এরই মধ্যে আগুন আরও ভয়াবহ চেহারা নিয়েছে। এক-এক করে পৌঁছেছে দমকলের ২২টি গাড়ি। ফলে, ওই বিল্ডিংয়ে প্রবেশ করে আটকে পড়া ব্যক্তিকে কখন এবং কী ভাবে উদ্ধার করা যাবে, তা নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। বিপদ গভীর থেকে গভীরতর হতে প্রৌঢ় ওই লিফ্‌ট ম্যানের আর্তনাদ ক্রমেই বাড়ছে।

তা হলে উপায়? হেয়ার স্ট্রিট থানার ওসি দেবজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের নির্দেশে আসরে নামলেন সাব-ইনস্পেক্টর নিরুপম দত্ত। তাঁর প্রথম লক্ষ্য হল, স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে গোপালের মোবাইল নম্বর জোগাড় করা। কয়েক মিনিটের মধ্যে তিনি সেই নম্বর জোগাড় করে ফেললেন। তার পরেই গোপালকে ফোন নিরুপমের। ঘড়িতে তখন বিকেল ৫টার এ দিক-ও দিক। পুলিশের ফোন পেয়েই, আদতে ওডিশার বাসিন্দা, ওই ব্যক্তির কান্না জড়ানো ভয়ার্ত গলায় মন্তব্য, ‘সাহাব হাম মর জায়েঙ্গে’। তাঁকে আশ্বস্ত করে নিরুপম বললেন, ‘ভয় নেই। আমরা আপনাকে উদ্ধার করতে আসছি।’

নিরুপমের কথা মতো ছাদের একধারে এসে বৃদ্ধ হাত দেখালেন পুলিশকে। তখনও তাঁকে ফোনে ধরে রেখেছেন ওই অফিসার। প্রৌঢ়ের মনে ভরসা জুগিয়ে তাঁকে হাত নেড়ে দমকলের পিছু পিছু বিল্ডিংয়ের ভিতরে ঢুকলেন ওই এসআই। ফোনের সংযোগ কিন্তু তখনও কাটেননি তিনি।

দমকলকর্মীরা ও পুলিশ অফিসার ব্লিডিংয়ের প্রবেশ করেছিলেন ঠিকই, কিন্তু আটকে পড়া ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করা সহজ ছিল না। একেই প্রবল তাপ বিল্ডিংয়ের ভিতর। ধোঁয়ার ভর্তি হয়ে গিয়েছে সিঁড়ি। এতটাই যে, সেই ধোঁয়ায় শ্বাস নেওয়াও দায়। ফলে দমকলকর্মীদের সঙ্গে এসআই নিরুপম অনেকটা যেতে পারলেও ছাদ পর্যন্ত পৌঁছনো তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। আতঙ্কে বেগতিক কিছু যাতে না-ঘটে, সেই জন্য বিল্ডিংয়ের মধ্যেই দাঁড়িয়ে গোপালের সঙ্গে মোবাইলে কথা চালিয়ে যেতে থাকলেন নিরুপম। তাঁর বাড়ি কোথায়, বাড়িতে কে কে আছেন এই সব কথা বলে প্রৌঢ়ের মন অন্য দিকে ঘোরানোর চেষ্টা করেন এসআই।

গোপালের মনোবল চাঙ্গা রাখার জন্য নিরুপম তাঁকে মাঝেমধ্যে জানাতে থাকলেন, আর মাত্র কয়েকটা সিঁড়ি। তার পরেই উদ্ধারকারী দল নিয়ে তিনি পৌঁছে যাবেন। ততক্ষণে ল্যাডার নিয়ে এসে বাইরের দিক থেকে ওই প্রৌঢ়কে উদ্ধারের চেষ্টা চালাতেন থাকেন উদ্ধারকারীরা। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। অবশেষ আগুন ও ধোঁয়ার দাপট কিছুটা কম হতে অক্সিজেন মাস্ক পরে ভিতরে ঢোকেন বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কর্মীরা। তাঁরা ছাদে উঠে কাঁধে করে বের করে নিয়ে আসেন ওই ব্যক্তিকে।

বিকেল ৫টায় যে ফোনকল শুরু হয়েছিল, তা শেষ হয় সন্ধ্যা ৭টায়। শেষ হয় ঘণ্টা দুয়েকের টান টান ‘হিরোইক’ উদ্ধারকাজ।

প্রৌঢ়কে হাত দেখিয়ে প্রবল ঝুঁকি নিয়ে অগ্নিগ্রাসে থাকা বিল্ডিংয়ে ঢুকেছিলেন যে পুলিশ অফিসার, অপারেশন সফল হওয়ায় স্বস্তি পান তিনি তো বটেই, উপস্থিত বাকি সবাই। উদ্ধারকারীদের প্রচেষ্টাকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন চরম বিপদ থেকে বেঁচে যাওয়া গোপলবন্ধু দাসও। তাঁর মন্তব্য, ‘ওঁরা (উদ্ধারকারীরা) না-থাকলে আজ হয়তো বাঁচতাম না। আর ওই স্যর (পুলিশ অফিসার) আমাকে ফোনে সাহস জুগিয়ে যাচ্ছিলেন।’

আগুন-আতঙ্কে স্টিফেন কোর্ট থেকে ঝাঁপ দিয়ে মানুষের মৃত্যুর সাক্ষী ছিল এই শহর। কিন্তু সোমবার আর এক অগ্নিকাণ্ডে উপস্থিত বুদ্ধির প্রয়োগ ঘটিয়ে অক্ষত অবস্থায় এক জনকে উদ্ধারের ঘটনারও সাক্ষী থাকলো কলকাতা।

এ দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান কলকাতার পুর প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম। তাঁর কথায়, ‘আগুন সত্যিই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারত। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে দেখেছি, জ্বলন্ত ভবনে আটকা পড়া এক ব্যক্তিকে দমকল উদ্ধার করেছে সাহসকে সঙ্গী করে। ওই ব্যক্তি এখন নিরাপদ। সাহসী দমকল বাহিনীকে আমার সেলাম।’ ফিরহাদ জানান, কী কারণে আগুন লাগল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ওই ব্যক্তিকে উদ্ধারের পর পুলিশ জানতে পারে, যখন আগুন লাগে, সেই সময়ে তিনি বাথরুমে ছিলেন। ফলে, ওই অফিসবাড়ির বাকি সবাই বেরিয়ে পড়লেও তিনি বেরোতে পারেননি। তিনি যখন বাথরুম থেকে বেরিয়ে এসে আগুন দেখেন, ততক্ষণ প্রায় গোটা বাড়ি ধোঁয়ায় ভর্তি হয়ে গিয়েছিল। সেই জন্য প্রাণ বাঁচাতে ছাদে উঠে গিয়েছিলেন তিনি।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

Farmers deprived of PM-Kisan benefits, says West Bengal Governor

Tue Aug 11 , 2020
Bengal Governor Jagdeep Dhankhar on Monday wrote to Chief Minister Mamata Banerjee raising questions about the farmers being denied benefits of the PM-Kisan Samman Nidhi. “Due to inactions and failures @ Mamataofficial farmers in WB have so far been deprived of ₹8,400 crore benefit #PMKisan Most unfortunate that Annadata is […]

You May Like

Breaking News

Recent Posts