সূত্রের খবর, দিল্লির বেশ কয়েক জন বিজেপি নেতাও জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন মুকুলকে রাজ্যসভার সাংসদ করতে। সেই মতো গত মাসে দুই বাঙালি সাংসদ উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাছেও ছুটেছিলেন। কারণ, রাজ্যসভার সাংসদ বেণীপ্রসাদ ভার্মার মৃত্যুর পর একটি আসন ফাঁকা হয়েছিল সেখানে। শূন্যস্থানে মুকুলের নামে তদ্বির অবশ্য শেষ পর্যন্ত হালে পানি পায়নি। তবে হাল ছাড়েননি মুকুলপন্থীরা। তাঁদের পরবর্তী টার্গেট দলহীন রাজ্যসভার সাংসদ প্রয়াত অমর সিংয়ের আসনটি। নভেম্বরে এমনিতেই উত্তরপ্রদেশে ১০টি রাজ্যসভা আসনে নির্বাচন। যোগ হবে অমর সিংয়ের আসনটিও। যোগী-রাজ্যে দলগত শক্তির বিচারে বিজেপির ন’টি আসন নিশ্চিত। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী চন্দ্রশেখরের ছেলে নীরজ শেখরকে দু’টি আসনে মনোনয়ন দেওয়া হবে বলে ঠিক হয়ে আছে বিজেপির অন্দরে। বাকি আসনগুলিতে কাদের জিতিয়ে আনা হবে, তা চূড়ান্ত করা হবে অক্টোবরের গোড়ায়।
বিজেপি সূত্রের খবর, অমর সিংয়ের মৃত্যুর ফলে খালি রাজ্যসভার আসনটিতে মুকুলের নাম নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্বও। সে ক্ষেত্রে মুকুল জিতলে তিনি বছর দু’য়েকের কাছাকাছি রাজ্যসভার সাংসদ থাকবেন। এর মধ্যে বাংলায় বিধানসভার ভোটও হয়ে যাবে। তার পর ‘অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা’ নিতে পারবেন অমিত শাহ, জেপি নাড্ডারা।
সেই সঙ্গে বিজেপির কেন্দ্রীয় পদাধিকারী তালিকাতেও মুকুলের নাম ঢোকানোর চেষ্টা প্রবল ভাবে চালাচ্ছেন দিল্লির কিছু প্রভাবশালী নেতা। সেপ্টেম্বরের মধ্যেই দলের নতুন কেন্দ্রীয় পদাধিকারীদের তালিকা ঘোষণা করতে পারেন বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা। সেই তালিকায় মুকুলের নাম সহ-সভাপতি হিসেবে থাকলে বঙ্গ-বিজেপিতে দিলীপ ঘোষের ‘আধিপত্য’ কিছুটা ধাক্কা খাবে বলে মত দিলীপ-বিরোধী নেতাদের। দলের রাজ্যস্তরের এক নেতার কথায়, ‘মুকুলদা চাইছেন রাজ্যসভার সাংসদ বা কেন্দ্রীয় পদাধিকারী হতে। যাতে তাঁর পক্ষে বাংলার বিজেপি কর্মীদের পরিচালনা করতে সুবিধা হয়। কোনও সন্দেহ নেই, অমিত শাহরাও বিধানসভা ভোটে মুকুল রায়ের উপর অনেকটা নির্ভর করতে চাইবেন। সে ক্ষেত্রে তাঁকে কোনও না কোনও পদ দিতেই হবে। কারণ, বিজেপিতে পদহীন নেতার দাম নেই।’
