epic journey: গর্ভবতী স্ত্রীর পরীক্ষার জন্য স্কুটারে ঝাড়খণ্ড থেকে মধ্যপ্রদেশ ১৩০০ কিমি পাড়ি স্বামীর – 1,300km on scooter from jharkhand to mp for pregnant wife’s exam

এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: পরীক্ষাকেন্দ্রটি বাড়ি থেকে প্রায় ১৩০০ কিমি দূরে। কিন্তু এই সময় যাবেন কীভাবে? কোনও কথা না ভেবেই স্ত্রী বলেছিলেন, চলো বে়ড়িয়ে পড়া যাক। ব্যস , স্কুটার বের করে পরীক্ষাস্থলের দিকে যাওয়ার জন্য রওনা দিলেন স্বামী-স্ত্রী। তাতে কী, ভরা বর্ষার নানা ্প্রতিকূলতা পার করে ওই দম্পতি ঝাড়খণ্ড থেকে ১৩০০ কিমি পথ পার করলেন শুধুমাত্র মনের জোরে। স্ত্রী সাত মাসের গর্ভবতী। মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে তাঁর ২য় বর্ষের পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল। প্রাথমিক শিক্ষার ডিপ্লোমা কোর্সের পরীক্ষা দেওয়ার জন্য অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে যান স্বামী! এমন ঘটনা এই লকডাউনপর্বে কখনও ঘটেনি।

একটিমাত্র রেইনকোট। তা দিয়েই দশরথ ও সোনি মাঝি ঝাড়খণ্ডের গানটাটোলা গ্রাম থেকে ২৮ অগস্ট রওনা দেন। এতটা পথ, তায় আবার বর্ষার মরসুম। রাস্তা যে মসৃন ছিল তা একেবারেই নয়। ঝড়-বৃষ্টি মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ টপকে ওই দম্পতি যা করেছেন, সত্যিই অনুপ্রেরণামূলক। এ বছরের পরীক্ষা হাতছাড়া করতে চাননি সোনি। তাই গর্ভে সন্তান নিয়েই পরীক্ষায় বসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরীক্ষাকেন্দ্র বাড়ি থেকে অনেক অনেক দূরে। তবুও মনকে শক্ত করেই স্বামীকে নিয়ে বেড়িয়ে পরেছিলেন। স্ত্রীর এই মনের শক্তিকে কুর্নিশ করেন দশরথ। তাঁর কথায়, ‘আমি মাধ্যমিকের পর স্কুল ছেড়ে দিই। কিন্তু সে পড়াশোনা করে যেতে যায়। প্রথম বর্ষ শেষ করে পরের ধাপের জন্য পরীক্ষা দিতে চেয়েছিল। আমি চাই সে নিজের ভবিষ্যত গড়ুক। নিজের কেরিয়ার গড়ে স্বপ্নসফল করুক। এই কোর্স শেষ করে আমার স্ত্রী শিক্ষক হতে চায়। আমি চাই সোনি যেন ওঁর স্বপ্নপূরণ করুক। আর মাত্র দুমাস। ওর কেরিয়ারের জন্য আমাদের আসন্ন ভবিষ্যেতের জীবনও ভালোভালে গড়ে তুলতে পারব।’ স্বামীর কথায় চোখ দুটো জ্বলজ্বল করে ওঠে সোনির। সেও চায় স্বামীর যে কোনও পরিস্থিতিতে পাশে থাকতে। জানা গিয়েছে, নয় মাস আগেই তাঁদের দুজেনর বিয়ে হয়।

৩৭ বছরের দশরথের ক্যাটারিংয়ের একটি ফার্ম রয়েছে। লকডাউনের জেরে কোনও ট্রেন চলছে না। গাড়ি ভাড়া হেঁকেছে ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা।’ আমাদের অত আর্থিক সামর্থ্য নেই। স্ত্রীর কাছে পরীক্ষাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই স্কুটার চালিয়ে পথ অতিক্রম ছাড়া গতি ছিল না আমাদের।’ বৃহস্পতিবার টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাতকারে এই কথাই জানালেন দশরথ। অন্যদিকে গোয়ালিয়রের পদ্মা কলেজে পরীক্ষা দেওয়ার কথা লিখেছিল ফর্মে। তাই বার বার সেখানেই তাঁর পরীক্ষাকেন্দ্র পড়ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

৩০ অগস্ট গোয়ালিয়রে পৌঁছায় তাঁরা। বুধবার রাতেই সেই খবর প্রকাশিত হয়ে যায়। এই ঘটনার পর সারা রাজ্য তো বটেই, গোটা দেশেই এই দম্পতির কীর্তির কথা ভাইরাল হয়ে যায়। দশরথ জানিয়েছেন, ‘তারপর থেকে আমার ফোনে বারবার ফোন আসছে। এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর অফিস থেকেও আমার কাছে ফোন এসেছিল। মধ্যপ্রদেশ সরকার বিমানে করে দিল্লি ফেরার টিকিট দেবে ও ঝাড়খণ্ডের গ্রামে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে। আর দম্পতির সঙ্গী স্কুটারটি রেলপথে পার্সেল হিসেবে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন: JEE দিতে সাইকেলে গোসাবা থেকে কলকাতা ৭৫ কিমি পাড়ি ছাত্রের

১০ দিনের জন্য একটি ছোট্ট ঘর ভাড়া হিসেবে নিয়েছিলেন দশরথ ও সোনি। ভাড়া ১৫০০টাকা। হোটেলে থাকার সামর্থ নেই। দশরথ জানিয়েছে, ‘আমার মাসিক আয় ৯ হাজার টাকা। এতটা পথ অতিক্রম করার জন্য রাস্তার সমস্ত খরচ তুলতে গিয়ে সোনি ওর নিজের গয়না বন্ধক রেখেছে। এই ঐতিহাসিক যাত্রার জন্য জ্বালানি খরচ হয়েছে ২০০০টাকার বেশি। ‘ যাত্রার প্রথম দিন একটি লজে শোওয়ার ব্যবস্থা হয়। সেখানেই দুজনের কোনওরকমে রাত কাটান। এরপর লখনউয়ের এক্সপ্রেসওয়ের ধারে একটি বাগানে রাত কাটিয়েছেন তাঁরা।

দশরথ এও জানিয়েছেন, ‘গোটা যাত্রায় আমার একটাই ভয় ছিল, রাস্তার খানাখন্দগুলো। এক একটা তো বেশ বড় বড় গর্ত তৈরি হয়ে গিয়েছে। তার উপর রয়েছে বাম্পার। এই মরসুমে অনেক জায়গায় জলের নীচে চলে গিয়েছে রাস্তা। এছাড়া রাস্তার দুধারে জলের স্রোতও পেয়েছি। বেশ চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু সোনি বলেছিল, সোজা তাকিয়ে শুধু ড্রাইভ করে যাও। আর সেটাই করে গিয়েছি আমি। ওকে আমার অসংখ্য ধন্যবাদ। ‘এতকিছু সহ্য করও গাড়িটি এখনও বেশ দিব্য রয়েছে দেখে হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন ওই দম্পতি। দেশের মানুষের কাছে এখন অনুপ্রেরণা সোনি। তাঁর কথায়, ‘সর্বত্র জল পেয়েছি। রাস্তাগুলো সবই ছিল জলের জলায়। বিহারের উপর দিয়ে আসার সময় খানিকটা ভয় পেয়েছিলাম আমরা। কিন্তু সেটাও অতিক্রম করে ফেলি।’ টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে এই সাহসী মহিলা জানিয়েছেন, ‘আমি খুব ছোট্টবেলায় আমার বাবাকে হারিয়েছি। কিন্তু এখন আমার পাশে আছে স্বামী।’ এতেই সে খুব খুশি।

শুধু রাস্তার ধকলই নয়, আর্থিক কারণে তাঁদের গাড়ি ছাড়া আর সম্বল ছিল একটি রেইনকোট। সেটি দুজনেই বদল করে করে ঝড়-বৃষ্টি থেকে নিজেদের কোনওরকমে রক্ষা করেছে।দশরথের কথায়, ‘একটা সময় এসেছিল, যখন এমন বৃষ্টি নামল যে সামনের একহাত দূরে কিছু দেখতে পাওয়া যাচ্ছিল না। তিনঘন্টা একটি গাছের নীচে ঠায় দাঁড়িয়েছিলাম। সারা শরীর ভিজে গিয়েছিল। বৃষ্টি থামতে ফের গাড়ি চালিয়ে ছুটে গিয়েছিলাম। এই সময়গুলোতে সোনি আসন্ন সন্তানকে নিয়ে চিন্তা করত। আমি বলতাম, ভগবানের উপর বিশ্বাস রাখো। দেখবে সব কিছউ ঠিক হয়ে গিয়েছে। ‘ শুক্রবার ইউএসজি করে দেখা গিয়েছে, গর্ভের সন্তান বেশ ভালোই আছে। সোনির এখনও সাতটি পেপার পরীক্ষা দেওয়া বাকি। গোয়ালিয়রের কালেক্টর কৌশলেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, ওই দম্পতির স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরকে জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বাস্থ্য দফতর থেকে ওই দম্পতির হাতে মোট পাঁচ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়, যাতে আসন্ন সব স্বাস্থ্যপরীক্ষাগুলো সোনি ঠিকঠাকভাবে নিতে পারেন। আগামী রবিবার ফের একটি ইউএসজি পরীক্ষা রয়েছে সোনির।

খবরটি ইংরেজিতে পড়ুন এখানে…

এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। জাস্ট এখানে ক্লিক করুন

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

China wants to talk to India on LAC? defence ministers likely to meet today in Russia | भारत के पराक्रम से घबराया चीन घुटनों पर आया, रक्षा मंत्री से बातचीत करने को बेताब

Fri Sep 4 , 2020
नई दिल्ली: सीमा पर पिटने के बाद चीन बातचीत के लिए बेकरार है बेचैनी इतनी कि मॉस्को में चीन के रक्षा मंत्री राजनाथ सिंह (Rajnath Singh) से मिलने की गुहार लगा रहे हैं. 24 घंटे में पांच बयान जारी करने वाला चीन अब बातचीत को लेकर इतना बेताब क्यों है […]

Breaking News

Recent Posts