Mamata Banerjee: পুরোহিত ভাতায় ষোল কলা পূর্ণ, তবুও মমতার লড়াই অসম – analysis on west bengal govt’s monthly allowance decision for poor hindu priests

হাইলাইটস

  • বিজেপি নেতারা ছুটেছিলেন আদালতে।
  • বিচারপতিরাও এই সিদ্ধান্তকে অসংবিধানিক বলেছিলেন।
  • তবুও ঘুরিয়ে ওয়াকফ বোর্ডের মাধ্যমে সেই ভাতা প্রদান জারি রেখেছে তৃণমূল সরকার।

সম্বিত পাল

শুরু হয়েছিল ইমাম-মোয়াজ্জেনদের ভাতা দিয়ে। সেই ষোল কলা পূর্ণ হল পুরোহিত ভাতায়। ইমামদের মাসিক ভাতার কথা ঘোষণা করে সংখ্যালঘু তোষণের অভিযোগে বিদ্ধ হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একটি ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক সরকার একটি বিশেষ ধর্মের জন্য কীভাবে এই ধরণের ভাতার কথা ঘোষণা করতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। ব্যাপারটিকে মমতার বৃহত্তর মুসলমান তোষণের প্রেক্ষাপটে দেখা হয়েছিল। বিজেপি নেতারা ছুটেছিলেন আদালতে। বিচারপতিরাও এই সিদ্ধান্তকে অসংবিধানিক বলেছিলেন। তবুও ঘুরিয়ে ওয়াকফ বোর্ডের মাধ্যমে সেই ভাতা প্রদান জারি রেখেছে তৃণমূল সরকার।

এবার সনাতন ব্রাহ্মণ পুরোহিতদের ‘আবেদনের’ ভিত্তিতে তাঁদের জন্যও মাসিক ১০০০ টাকা ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। অন্য ধর্মের জন্যও দরজা খুলে রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেছেন, গীর্জার পাদ্রীরা চাইলেও তিনি ভাতার ব্যবস্থা করতে পারেন। তিনি অনুরোধ করেছেন, ভাতা প্রদানের সিদ্ধান্তকে “অন্য ভাবে দেখবেন না।”

এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিজেপির মুখে ঝামা ঘষে দেওয়া গেল বলে অনেকেই ভাবছেন। বিজেপি তো আর পুরোহিত ভাতার বিরোধিতা করে আদালতে ছুটতে পারবে না। হিন্দুরাও এতে মমতার প্রতি প্রসন্ন হবেন বলে অনেকের মত। এ নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই বিজেপির সঙ্গে লড়তে গিয়েই মমতাকে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।

কিন্তু তলিয়ে দেখলে বোঝা যাবে, মমতা বিজেপির সঙ্গে একটি অসম লড়াইয়ে নেমেছেন। যদিও দু’পক্ষই ভোট ব্যাঙ্ক রক্ষা করার লড়াইয়ে নেমেছে, তবুও বিজেপির লক্ষ্য কিন্তু অনেক বড় ও সুদুরপ্রসারী। মমতার লক্ষ্যমাত্রা কিন্তু শুধুই ভোটবাক্স।

আরএসএস-বিজেপির গাড়ি কিন্তু গিয়ে ঠেকবে হিন্দু রাষ্ট্রে। মমতার গাড়ি কোথায় যাবে? কোথায় কোন যাত্রীকে ওঠাতে হবে, কাকে নামাতে হবে, গাড়ির রং কেমন হবে, তাতে কী লেখা থাকবে — বিজেপির ক্ষেত্রে কিন্তু সবটা ঠিক করা আছে। গন্তব্য অনুযায়ী একে একে সবটা হবে। কিন্তু মমতার গন্তব্য জানা আছে কী?

যদি ধরেও নেওয়া যায়, বাম আমলের শ্রেণী ভিত্তিক রাজনীতি — মানে গরীব-সর্বহারা বনাম বড়লোক-বুর্জোয়ার লড়াইয়ে তারা পরিচয় ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতিকে কার্পেটের তলায় রেখে দিয়েছিল, তারও কিন্তু একটা উদ্দেশ্য ছিল। একটি শ্রেণীহীন সমাজ তৈরি করা। সেই শ্রেণীহীন সমাজের লক্ষ্যপূরণে তারা শুধু বাজে ভাবে ব্যর্থই হয়নি, একটি পার্টি-সমাজ গড়ে ফেলেছিল। তাতে চাপা পড়েছিল আত্ম-পরিচয়ের রাজনীতি। বাম-রাজনীতিতে সেই জাত-পাত-ধর্মের সমীকরণকে অস্বীকার করা হয়েছিল। কিন্তু পার্টির-আগ্রাসনের মুখে সেই চাপা পড়ে যাওয়া আত্ম-পরিচয়ের রাজনীতি এখন যেন আগ্নেয়গিরির মতো জেগে উঠেছে।

অন্যদিকে বিজেপিরও কিন্তু হিন্দু রাষ্ট্রের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা রয়েছে। তাই তাদের ধর্ম-ভিত্তিক রাজনীতিতে কোনও দ্বিধা নেই। তিন তালাক বা ৩৭০ ধারা বিলোপ হোক বা রাম মন্দির তৈরি — সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণের এক একটি ধাপ। তার সঙ্গে নির্বাচনী রাজনীতির মেলবন্ধন রয়েছে। সেই লক্ষ্যপূরণে তারা কতটা সফল হবে, তা দেখতে হবে। কিন্তু বর্তমানের হিসেব অনুযায়ী সেই গাড়ি মসৃণ পথেই চলছে।

কিন্তু বামেদের শ্রেণী-ভিত্তিক রাজনীতি ও রামেদের ধর্ম-ভিত্তিক রাজনীতির বিকল্প মমতা খুঁজে পেয়েছেন কী? যদি আত্ম পরিচয়ের রাজনীতির প্রয়োজনীয়তা সেই সব গোষ্ঠীর সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য করা হয়ে থাকে, তাতে আপত্তি নেই ঠিকই, কিন্তু তার জন্য একটি সামগ্রিক ও সুদুরপ্রসারী পরিকল্পনা দরকার।

পুরোহিত ভাতা, দলিত সাহিত্য অ্যাকাডেমি, সংস্কৃত পুঁথির ডিজিটাল সংস্করণ ও সংরক্ষণ, হিন্দি অ্যাকাডেমি গঠনের মধ্যে প্রতীকী রাজনীতি রয়েছে। ভোট ব্যাঙ্কের রাজনীতি রয়েছে। কিন্তু তাতে সামগ্রিক ভাবে সেই সব গোষ্ঠীগুলির উন্নয়নের যোগ খুবই কম।

আপাত ভাবে ভোটের দিকে তাকিয়ে ছোট ছোট সিদ্ধান্তে ভোটের বাক্স ভরলেও ভরতে পারে, কিন্তু গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে এভাবে লড়ে বেশিদূর যাওয়া যাবে না। এই লড়াই অসম।

আরও পড়ুন:
বাংলায় চালু হচ্ছে পুরোহিত ভাতা, নবান্নে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। জাস্ট এখানে ক্লিক করুন।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

Weekly recap: Markets witness a muted weekly closing

Sat Sep 19 , 2020
Let us take a glimpse into what happened in markets over this week. Source link

You May Like

Breaking News

Recent Posts