kp sharma oli: ভারতকে চাপে রাখতে গিয়ে দলেই কোণঠাসা অলি, প্রধানমন্ত্রীর কুরসি রক্ষাই এখন দায়! – nepal prime minister  kp sharma oli’s attack on india backfires, chorus for his exit becomes louder at party meet

হাইলাইটস

  • নিজের আসন শক্তপক্ত করতে ভারতকে ক্রমাগত আক্রমণ করছিলেন অলি
  • তাঁর এই ভারত বিরোধিতা অলি সরকারের জন্য বুমেরাং হয়ে দেখা দিয়েছে
  • শাসকদল নেপাল কমিউনিস্ট পার্টিই আলিকে আর প্রধানমন্ত্রী পদে দেখতে চায় না
  • অলিকে ইস্তফা দিতে চাপ বাড়াচ্ছে দল
  • ভারতের বিরোধিতা করে, চিনের সঙ্গে মাখামাখি ভালো চোখে দেখেছেন না কেউ-ই
  • নিজের দলেরই বক্তব্য, নিজের ব্যর্থতা ঢাকতেই ভারত বিরোধিতা করছেন অলি

এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: দু’দিন আগেই ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী (Nepal Prime Minister) কেপি শর্মা অলি (KP Sharma Oli)। বলেন, তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরাতে ষড়যন্ত্র করছে ভারত। কার্যক্ষেত্রে দলের মধ্যেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী। ভারত বিরোধিতায় সুর চড়িয়ে, প্রধানমন্ত্রীর কুরসি আগলাতে চেয়েছিলেন অলি। উলটে তাঁর এই পদক্ষেপ বুমেরাং হয়ে দেখা দিয়েছে। শাসকদলের অন্দরে অলি-বিরোধিতা এতটাই তীব্রতর হয়েছে, কেপি শর্মা অলিকে যে কোনও সময় প্রধানমন্ত্রীর গদি ছাড়তে হবে। শাসকদল নেপাল কমিউনিস্ট পার্টি (Nepal Communist Party)-র বরিষ্ঠ নেতারা মঙ্গলবার প্রকাশ্যে অলির সমালোচনা করেন। শুধু তোপ দাগাই নয়, সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, অবলিম্ব তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বলেছে পার্টি।

রবিবার এক অনুষ্ঠানে সরাসরি ভারতের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে অলি বলেন, ‘নেপালের সংবিধান সংশোধনের পর থেকেই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে দিল্লি।’ নতুন মানচিত্র তৈরির জন্যই তাঁর প্রতিপক্ষদের উসকানি দিয়ে সরকার ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। নেপালের সংবিধান সংশোধনের বিষয় নিয়ে দিল্লিতে বৈঠক করার কী দরকার, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। অলির কাথায়, ‘এর পিছনে আসল উদ্দেশ্য হল আমার সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানো। যদিও, এই চেষ্টায় কোনওভাবেই সফল হবে না ভারত। কারণ, নেপালের জাতীয়তাবাদ অত ঠুনকো নয় যে কেউ বাইরে থেকে সরকার ফেলে দেবে। আমিও কোনও ভাবে বাইরের কোনও শক্তির কাছে মাথা নোয়াব না। কারণ আমি সরে গেলে নেপালের জাতীয়তাবাদ ও সীমানা নিয়ে দাবি জানানোর আর কেউ নেই।’

কয়েক দিন আগেই তিনটি ভারতীয় ভূখণ্ডকে নিজেদের বলে দাবি করে, বিতর্কিত মানচিত্র তৈরি করে নেপাল। সংবিধান সংশোধন করে, বিতর্কিত মানচিত্রকে মান্যতাও দেওয়া হয়েছে। অলির এই পদক্ষেপের পরেই কিন্তু ছবিটা আমূল বদলে গিয়েছে। জনপ্রিয়তা দূর অস্ত, উলটে তাঁর গদিই এখন নড়বড়ে। বিশেষত, শাসকদলের অন্দরে কোণঠাসা হয়ে পড়ায় অলি নিজেও সেটা বুঝছেন। তাই দলের বৈঠকও তিনি এড়িয়ে যাচ্ছেন। নিজের কুর্সি বাঁচাতেই যে দলীয় বৈঠকে কেপি শর্মা অলি অংশগ্রহণ করছেন না, তা দলও বুঝেছে। দল তাঁকে পাছে ইস্তফা দিতে বলে, সেই ভয়েই বৈঠক এড়িয়ে যাচ্ছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী ।

শুক্রবার (২৬ জুন) কেপি শর্মা অলির বাসভবনেই কমিউনিস্ট পার্টির স্থায়ী কমিটির বৈঠক ছিল। সেখানে তিন যোগ না-দেওয়ায়, দল তাঁর উপর ব্যাপক খেপেছে। দলের বরিষ্ঠ এক নেতার কথায়, ‘অলি নিজে বৈঠক ডেকে, নিজেই অনুপস্থিত ছিলেন। যার অর্থ, দলের অন্যান্য সদস্যদের তিনি অপমান করেছেন। বৈঠকে যোগ দিয়ে, দলের কথাবার্তা শোনা উচিত ছিল।’ এদিনের পর দলের অনেক নেতাই কড়া মনোভাব ব্যক্ত করে অলির পদত্যাগ দাবি করেন। শাসকদলের সহ-চেয়ারম্যান, নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কামাল দহালও অলির বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী ভারতের দিকে অভিযোগের আঙুল তুললেও, সেখানকার বিরোধীরা তা মানছেন না। তাঁদের কটাক্ষ, দেশের অভ্যন্তরে তাঁর বিরুদ্ধে অসন্তোষ দানা বাঁধছে বুঝতে পেরেই ভারতের দিকে আঙুল তুলছেন অলি। আসলে মানচিত্রের দিকে নজর দিতে গিয়ে করোনার সংক্রমণ আটকানোর কোনও চেষ্টা করেননি তিনি। তাই শাসকদলের অন্দরেই তাঁর বিরুদ্ধে প্রবল ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

ইদানীন তাঁর সঙ্গে চিনের কমিউনিস্ট পার্টির নেতাদের অত্যাধিক মাখামাখিও ভালো চোখে দেখছেন না দলের নিচুতলার নেতা-কর্মীরা। তিনি চিনের কাছে দেশকে তুলে দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে দলের অন্দরে। বিরোধীরা বলছেন, এই সমস্ত বিক্ষোভকে চাপা দিতেই ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার তত্ত্ব আমদানি করেছেন অলি।

দ্য হিমালয়ান টাইমস সূত্রে খবর, মঙ্গলবার নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির ৪৪ সদস্যের স্থায়ী কমিটির বৈঠক ছিল। সেখান পুষ্প কামাল দহাল, মাধব নেপাল, ঝালানাথ খানাল, বামদেব গৌতমের মতো নেতারা দাবি করেন, অলিকে অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হবে। অলি নেতৃত্বাধীন সরকার ব্যর্থ বলে দাবি করেন, এই কমিউনিস্ট নেতারা। তাঁদের বক্তব্য, সরকারের ব্যর্থতা থেকে মনোযোগ ঘোরাতেই ভারতকে দোষারোপ করা হচ্ছে।

দলে তাঁর বিরোধীরা নাছোড়, হয় প্রধানমন্ত্রীর কুরসি ছাড়তে হবে নয়তো দলের কো-চেয়ারম্যানের পদ। ঘরে-বাইরে প্রবল বিক্ষোভের মধ্যে পড়ে, অলি এখন কী করেন, সেটাই দেখার।

অলির দাবি, তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ভারত ষড়যন্ত্র করছে। আপনার কী মত? জানান আমাদের কমেন্ট বক্সে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

জন্মদিনে ধোনিকে 'স্পেশাল গিফট' দিতে চান ব্র্যাভো!

Tue Jun 30 , 2020
এবার এমএসডি-র জন্মদিনটা অন্যভাবে সেলিব্রেট করতে চান তাঁর আইপিএল দলের সতীর্থ ক্যারিবিয়ান তারকা ডোয়াইন ব্র্যাভো। Updated By: Jun 30, 2020, 08:02 PM IST Source link

You May Like

Breaking News

Recent Posts