ladakh stand off: ভারত-চিন সংঘাতের পর এই প্রথম, শুক্রবার লাদাখ যাচ্ছেন রাজনাথ – defence minister rajnath singh, army chief naravane to visit ladakh on 3 july

হাইলাইটস

  • ৩ জুলাই, শুক্রবার লাদাখ যাচ্ছেন রাজনাথ সিং
  • কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর সঙ্গেই যাচ্ছেন সেনাপ্রধান
  • লাদাখের নিরাপত্তা, সীমান্তে সামরিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করবেন
  • গলওয়ান সংঘাতের পর রাজনাথের প্রথম লাদাখ সফর

এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: ভারত-চিন সংঘাত পরবর্তী পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ৩ জুলাই, শুক্রবার লাদাখে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী (Defence Minister) রাজনাথ সিং (Rajnath Singh)। তাঁর সঙ্গেই থাকছেন ভারতের সেনাপ্রধান (Army Chief) জেনারেল এমএম নারাভানে (MM Naravane)। সূত্রের খবর, লাদাখের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা ছাড়াও ভারত-চিন সামরিক পর্যায়ে আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে তাঁরা কথা বলবেন। সরকারি একটি সূত্রে খবর, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের লাদাখে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। শুক্রবারই তাঁরা লাদাখে পৌঁছবেন। পূর্ব লাদাখের গলওয়ান উপত্যকায় ভারত-চিন সংঘাতের পর এই প্রথম সেখানে যাচ্ছেন রাজনাথ সিং। সেনাপ্রধান নারাভানে এই নিয়ে দ্বিতীয় বার লাদাখে যাচ্ছেন।

চিনের সঙ্গে সংঘাতের আবহে ভারতীয় বাহিনীর সামরিক প্রস্তুতি দেখতে দিন সাত-আট আগেই লাদাখে গিয়েছিলেন সেনাপ্রধান। ভারত-চিন সীমান্তে এখন যুদ্ধের আবহ। চিনের লাল ফৌজ যুদ্ধ তত্‍পরতা শুরু করায়, ভারতও সামরিক ভাবে তৈরি। তিন বাহিনীই সেখানে মোতায়েন রয়েছে। ২৪X৭ ঘণ্টা অ্যালার্ট রয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা। চিনের যে কোনও ধরনের উসকানির মোকাবিলায় তৈরি ভারতীয় সেনা। সেনার সেই প্রস্তুতিই গত সপ্তাহে লাদাখে গিয়ে দেখে এসেছেন সেনাপ্রধান। ‌

যুদ্ধের এই আবহের মধ্যেই সীমান্ত সমস্যা মেটাতে দু-দেশের সামরিক পর্যায়ে আলোচনা জারি রয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) ভারতের চুশুলে তৃতীয় কোর কম্যান্ডার বৈঠকের পরেও কিন্তু সেই অর্থে কোনও সমাধান সূত্র বেরোয়নি। বর্তমানে প্যাংগং লেক ও গলওয়ান উপত্যকায় বেশ কয়েক কিলোমিটার ভিতরে ঘাঁটি গেড়ে বসে রয়েছে চিনের লাল ফৌজ মঙ্গলবার বৈঠকের পরেই চিনের লাল ফৌজ বাধ্য ছেলের মতো সরে যাবে, এমনটা আশাও কেউ করেননি। কার্যক্ষেত্রে তা হয়ওনি। তবে, কূটনীতিকরা মনে করেন, সমাধান সূত্র এক্ষুনি এক্ষুনি না বেরোলেও যুদ্ধের আবহে দু-দেশের সামরিক স্তরে এই আলোচনা চালিয়ে যাওয়া ইতিবাচক ইঙ্গিত।

চুশুলের এই বৈঠকে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন সেনার ১৪ নম্বর কোরের কম্যান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল হরেন্দ্র সিং। অন্য দিকে, চিনের পক্ষে আলোচনায় যোগ দেন দক্ষিণ জিংজিয়াং মিলিটারি ডিস্ট্রিক্টের চিফ মেজর জেনারেল লিউ লিন। এর আগে ২২ জুনও দু-পক্ষের বৈঠক হয়েছিল।

সূত্রের খবর, দৌলত বেগ ওল্ডি সড়কের আশপাশে যাতে চিনা সেনা কোনও ধরনের অনুপ্রবেশ না-করে, চিনের সেনাকর্তাদের থেকে সেই আশ্বাস আদায় করাই উদ্দেশ্য ছিল ভারতের। একই সঙ্গে প্যাংগং, গালওয়ান উপত্যকা, পেট্রোলিং পয়েন্ট ১৪-এর মতো অধিকৃত এলাকা থেকে লাল ফৌজ সরানোরও দাবি করেন জেনারেল হরেন্দ্র সিং।

১২ ঘণ্টা ধরে ম্যারাথন বৈঠকের পরেও সুস্পষ্ট সমাধানসূত্র পাওয়া যায়নি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভারত বা চিন কোনও তরফেই বৈঠক সম্পর্কে বিশদে কিছু জানানো না হলেও, সীমান্ত সমস্যা সমাধানের কোনও ইঙ্গিত মেলেনি বলেই জানা গিয়েছে।

বৈঠকে চিনের থেকে কোনও প্রতিশ্রুতি আদায় করতে না পারলেও, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় উত্তেজনা কমাতে দু-পক্ষই সমান উৎসাহী বলে ভারতীয় সেনার তরফে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়, দ্বিপাক্ষিক চুক্তি মেনে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর শান্তি ও স্থিতি ফিরিয়ে আনতে ভারত ও চিনের মধ্যে ভবিষ্যতে সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে আরও বেশ কিছু বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে, আর একটি সূত্রে দাবি, গলওয়ান উপত্যকা থেকে হট স্প্রিং পর্যন্ত ১৪, ১৫ ও ১৭ পয়েন্টে দু-পক্ষই সেনা নিষ্ক্রিয় করতে সম্মত হয়েছে। সেইসঙ্গে ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে কয়েক’শো মিটার দূরে সরে যাবে চিনের পিপল’স লিবারেশন আর্মি।

যদিও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী চিনা সেনার ভারতীয় ভূখণ্ড দখলের বিষয়টি স্বীকার করেননি। তবে, প্রাক্তন বিদেশসচিব নিরুপমা মেনন রাও রীতিমতো তথ্যপ্রমাণ তুলে দেখিয়েছেন কী ভাবে চিন অনুপ্রবেশ করেছে। ১৯৬০-৬১ সালে ভারত ও চিনের মধ্যে সীমান্ত সংক্রান্ত যে দস্তাবেজ রয়েছে তথ্য প্রমাণে তা-ও তুলে ধরেন তিনি। তাতে চিনের সীমান্তের যে অক্ষাংশ দেওয়া হয়েছে, তা দিয়ে উপগ্রহের সাহায্যে খোঁজ করলে দেখা যাচ্ছে, তার অনেক ভিতরে অনুপ্রবেশ করে এসেছে চিনা সেনা। শুধু তাই নয় ভারতের ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ করে বাঙ্কার, সেনা ছাউনি, রসদ ও অস্ত্র গোলাবারুদ রাখার স্থায়ী কাঠামো তৈরি করেছে লাল ফৌজ।

১৫ জুন গলওয়ান উপত্যকার ওই ১৪ পয়েন্টেই ভারত-চিন ভয়ানক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। যার জেরে এক সেনা অফিসার-সহ ২০ ভারতীয় সেনা শহিদ হন। বেশ কয়েক জন চিনাসৈন্যও মারা গিয়েছেন। নিহত চিনা সেনার প্রকৃত সংখ্যাটা গোপনই রেখেছে বেজিং। যদিও, মার্কিন মিডিয়ার দাবি, কমপক্ষে ৩৫ চিনা সেনা গলওয়ান সংঘাতে নিহত হয়েছেন। যা চিন মানেনি। বেজিংয়ের দাবি, ভারতের তুলনায় তাদের কম সেনা মরেছে। ১৫ জুন রাতের ওই সংঘাতের পরেই লাদাখ এখন রণাঙ্গন।

তৃতীয় সেনা বৈঠকেও মেলেনি সমাধান সূত্র। শুধু মুখের কথাতেই কি ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে সরবে চিনের লাল ফৌজ? আপনার মতামত জানান আমাদের কমেন্ট বক্সে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

Kolkata hospital unveils statue to honor doctors | Kolkata News

Thu Jul 2 , 2020
KOLKATA: Woodlands Hospital came together (maintaining all safety norms) to honour and salute the doctors on the occasion of Doctors Day on Wednesday. The hospital unveiled a statue in honour of all the doctors who are tirelessly putting their efforts to keep the society healthy especially during this global Covid-19 […]

You May Like

Breaking News

Recent Posts