তৃণমূলনেত্রীর নাম অবলম্বনেই কয়েকশো পেজ আছে ফেসবুকে। তাঁর সমর্থকদের উদ্যোগে খোলা পেজের সংখ্যা গুনে শেষ করা যায় না। লোকসভা কেন্দ্রওয়াড়ি পেজ তো আছেই, পেশাদারিত্বের ছাপ রেখে ‘দিদিকে বলো’, ‘বাংলার গর্ব মমতা’র মতো পেজ খোলার পর থেকে ফেসবুকে দলের সাম্রাজ্যও বেড়েছে বহু গুন। সামাজিক মাধ্যমের আওতায় আরও কিছু উপকরণ থাকলেও ফেসবুকই আম জনতার কাছে সহজ মঞ্চ। তাই সেখানেই সব থেকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে শাসকদল। প্রতিবার একুশে জুলাই তৃণমূলের টার্গেট থাকে যত বেশি সম্ভব মানুষকে ধর্মতলায় দলনেত্রীর মঞ্চের চারপাশে এনে হাজির করার। দক্ষিণে ভিড়ের শেষটা লিন্ডসে স্ট্রিট ছাপিয়ে আরও কত দূর গেল–তা নিয়েই তুলনা হয় এক বছরের সঙ্গে অন্য বছরের। এ বার দলনেত্রীর অনলাইন ভাষণ শোনার চর্চা হবে ভার্চুয়াল জমায়েতের মাপকাঠিতেই। কত সংখ্যক মানুষ ইন্টারনেট পরিষেবার মাধ্যমে ফেসবুক, ইউটিউবে ঢুঁ মারছেন–তারই প্রতিফলন পড়বে ‘ভিউ’-তে।
ভার্চুয়াল শোয়ের কারিগরি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত এক তৃণমূল কর্মী বলছেন, ‘কিছু জায়গায় পর্দায় দেখানোর ব্যবস্থা রাখতেই হবে। তবে এই স্মার্ট ফোনের যুগে নিজের ফোন থেকে ফেসবুকে ঢুকতে পারার লোকও কম নয়। তাই সেটা যত বেশি হবে আমাদের লাভ।’ দলের এই সূত্রেরই দেওয়া ব্যাখ্যা, এখন করোনা সংক্রমণের যা হার, তাতে পাড়ায় পাড়ায় বড় পর্দার সামনে বহু লোক জড়ো করা ঝুঁকির। এ ছাড়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে একটি পাড়ায় অনেক লোক একসঙ্গে দেখলে প্রকৃত দর্শকসংখ্যার প্রতিফলন পড়বে না সামাজিক মাধ্যমে। এটাও মাথায় রাখতে হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ার রমরমা শুরু হওয়া ইস্তক একুশে জুলাইয়ের মতো মেগা ইভেন্টের দিন তৃণমূলের ‘ব্যাক অফিসে’র গুরুত্ব অবশ্য উত্তরোত্তরই বেড়েছে। কিন্তু সম্পূর্ণ ভার্চুয়াল জনসভায় সেই ব্যাক অফিস সাজানো হচ্ছে আরও বেশি শক্তিশালী করে। দলনেত্রীর ভাষণ শুরু হতেই যুব তৃণমূলের প্রশিক্ষিত কর্মীরা টুইট এবং ইনস্টাগ্রামে তাঁর প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য তৎক্ষণাৎ তুলে ধরতে এক রকম তৈরিই।
