madhyamik result 2020: দর্শনে স্নাতক মা লোকের বাড়ি রাঁধুনি, তাঁর অদম্য লড়াইকে কুর্নিশ ছেলের সাফল্যে – mother is a cook, son passed madhyamik 2020 with very good marks

এই সময়: সূর্য ওঠার আগেই ঘুম থেকে উঠে পড়েন রুমা মজুমদার। সংসারের কাজ সেরে সাতটার মধ্যে বেরিয়ে পড়তে হয়। তিনটে বাড়িতে রান্না করে ফিরে ফের লেগে পড়েন পরিবারের রান্নাবাটিতে। লোকের বাড়িতে রান্না করার পাশাপাশি সংসার চালাতে হোম ডেলিভারিও করেন বছর পঁয়তাল্লিশের মহিলা। সন্ধ্যার রুটিনও অনেকটা এ রকমই বেলঘরিয়ার রুমার। যাকে নিজের পায়ে দাঁড় করাতে উদয়াস্ত পরিশ্রম তাঁর, সমস্ত প্রতিকূলতা পেরিয়ে সেই ছেলে রূপম বুধবার ৮৭ শতাংশ নম্বর নিয়ে মাধ্যমিকে সসম্মানে উত্তীর্ণ হয়েছে। প্রাপ্ত মোট নম্বর ৬১২। শ্যামবাজারের পার্ক ইনস্টিটিউশনের সম্ভাব্য প্রথম সে। ছেলের সাফল্যে তৃপ্ত মা বলছেন, ‘মনে হচ্ছে এতদিনের লড়াই সার্থক হল।’

শ্যামবাজারেরই আদি বাসিন্দা হলেও কিছু সমস্যায় বছর পাঁচেক আগে বেলঘরিয়ার ভাড়াবাড়িতে থাকা শুরু করেন রুমারা। স্বামী প্রদীপ ইলেকট্রিক মিস্ত্রি। আগে টুকটাক রোজগার হলেও লকডাউনে কেউই তেমন কাজে ডাকছে না তাঁকে। রুমার কথায়, ‘দু’জনে মিলে যা রোজগার করি তাতে বাড়িভাড়া আর পেট চালাতেই সব শেষ হয়ে যায়।’ টাকার অভাবেই ছেলেকে দিতে পারেননি গৃহশিক্ষক। তবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন পাড়ার এক মাস্টারমশাই। সেটাও সম্ভব হয়েছে ছেলের পড়াশোনার জন্য মায়ের তাগিদ দেখেই। রুমা বলেন, ‘অশোক মহান্ত নামে এক জনের বাড়ি আমি রান্না করি। ছেলে পড়াশোনায় ভালো জেনে তিনিই রূপমকে পড়ানোর দায়িত্ব নেন। এ জন্য একটা পয়সাও নেননি।’

নিজেকে আড়ালে রেখে সন্তানকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই ব্রত যাঁর, তাঁর আর এক পরিচয় জানলে বিস্মিত হতে হয়। নিজে জানাতে না-চাইলে কী হবে, পরিচিতরা জানেন, রুমা নিজে জয়পুরিয়া কলেজ থেকে দর্শনে স্নাতক। রূপমকে ইংরেজি, বাংলা, ইতিহাস পড়িয়েছেন মা-ই। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে স্কুলও। প্রধান শিক্ষক সুপ্রিয় পাঁজা বলেন, ‘ছেলেটি মেধাবী এবং পরিশ্রমী। তবে ওর মা যে লড়াই করেছেন, তাকে কুর্নিশ করতেই হয়।’

ভালো রেজাল্টের জন্য মা-র কথা বলছে রূপমও। তার কথায়, ‘মা শুধু আমাকে মানুষ করার জন্য যে পরিশ্রম করেছে, সেটা বলার নয়। এত কাজ সামলেও আমাকে পড়িয়েছে।’ রুমা এ সবে আমল দিচ্ছেন না। ছেলের সাফল্যেই তাঁর সব তৃপ্তি। মা বলছেন, ‘যতদিন পর্যন্ত না নিজের পায়ে দাঁড়াচ্ছে, লড়াই চলবে।’ দর্শনে স্নাতক হয়েও লোকের বাড়ি রান্না করা–জীবন-জীবিকার, মাথা উঁচু করে বাঁচার লড়াইটা যে কী মস্ত চ্যালেঞ্জের, রুমার চেয়ে ভালো আর কে জানবেন! রূপমের সাফল্য সেই লড়াই-পথে ছোট্ট একটা হার্ডল পেরোনো মাত্র। লড়াইটা কিন্তু দূরপাল্লার।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

Popular Heartburn Meds Tied to Higher COVID Risk

Thu Jul 16 , 2020
By Alan MozesHealthDay Reporter WEDNESDAY, July 15, 2020 Popular heartburn medications such as Prilosec (omeprazole) and Nexium (esomeprazole) may inadvertently up your chances of catching COVID-19, new research suggests. An online survey of more than 53,000 Americans, all with a history of acid reflux, heartburn or GERD (gastroesophageal reflux disease) […]

You May Like

Breaking News

Recent Posts