হাইলাইটস
- লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় সোমবার রাতে নিহত হন কর্নেল সন্তোষ বাবু
- নিহত হন কমপক্ষে ২০ ভারতীয় সেনা জওয়ান
- চিনেরও ৪০ জওয়ান নিহত হয়েছেন বলে সূত্রের খবর
- বেজিং সরকারি ভাবে সেনামৃত্যুর খবর স্বীকার করেনি
- বুধবার তেলেঙ্গেনার সূর্যপেটে পৌঁছবে শহিদ কর্নেলের মরদেহ
ভারতীয় সেনাবাহিনী সূত্রে খবর, বিগত ৪৫ বছরের মধ্যে ভারত-চিন সীমান্তে এমন হিংসাত্মক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। সোমবার রাতে লাদাখের গালওয়ালে চিনের সঙ্গে সংঘর্ষে কর্নেল সন্তোষ বাবু-সহ মোট তিন ভারতীয় জওয়ানের মৃত্যুর খবর জানা গেলেও, পরে একটি সূত্রে ২০ জওয়ান শহিদ হওয়ার কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। উলটো দিকে, চিনেরও সমসংখ্যক জওয়ান নিহত হয়েছেন বলে সংবাদ সংস্থার তরফে দাবি করা হয়েছে। আর একটি সূত্রে, ৪০ জন চিনা জওয়ান শহিদ হওয়ার কথা জানা যায়। তবে, বেজিং সরকারি ভাবে এখনও পর্যন্ত একজন জওয়ানেরও মৃত্যুর খবর জানায়নি।
১৯৭৫ সালের ২০ অক্টোবর তুলুং লা’তে (Tulung La) টহলরত অসম রাইফেলস (Assam Rifles)-এর একটি দলের উপর অতর্কিতে হামলা চালিয়েছিল চিন। গুলিবিদ্ধ হয়ে চার ভারতীয় জওয়ান শহিদ হয়েছিলেন। তার পর, মাঝের এই চার দশকে সীমান্ত নিয়ে বিবাদের জেরে একাধিকবার চরম উত্তেজনা তৈরি হলেও, তাতে হিংসাত্মক সংঘর্ষের চেহারা নেয়নি। এমনকী সোমবার রাতে গোলাগুলি চলার কথা স্বীকার করেনি কোনও পক্ষই। বিভিন্ন সূত্রে হাতাহাতি সংঘর্ষের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু, একসঙ্গে ২০ ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার পরে, সেই দাবির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
Capture
কষ্টে বুক ফেটে গেলেও ছেলেকে নিয়ে তাঁর যে গর্বের শেষ নেই, সে কথা জানাতে ভোলেননি নিহত কর্নেলের বাবা বি উপেন্দ্র। জানালেন, রবিবারই ছেলের সঙ্গে ফোনে তাঁর কথা হয়েছিল। ছেলেকে সাবধানে থাকতে বলেছিলেন।
উপেন্দ্র বলেন, ‘দেশের সেবা করার জন্য আমারও সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু আমি সেটা করতে পারিনি। তাই আমি চাইতাম, আমার ছেলে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে দেশের সেবা করুক।’ জানালেন, আত্মীয়রা সেসময় অনেকেই আপত্তি করেছিলেন। কিন্তু, তিনি সেই আপত্তিতে গুরুত্ব দেননি। ছেলেকে বাধা দেননি। বাবার কথায়, ‘দেশের জন্য ও প্রাণ দিয়েছে। তাই ওকে নিয়ে আমি গর্বিত।’
তেলেঙ্গানার সূর্যপেট জেলায় বাড়ি সন্তোষের। ২০০৪ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। শুরুতেই তাঁকে পাঠানো হয়েছিল জম্মু-কাশ্মীরে। সেখান থেকে লাদাখে। কিছুদিন পরেই তাঁর হায়দরাবাদে পোস্টিং হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, তার আগেই তিনি প্রাণ হারালেন। কর্নেলের স্ত্রী ও ছেলে-মেয়ে দিল্লিতে রয়েছেন।
বুধবার শেষকৃত্যের জন্য তাঁর মরদেহ তেলেঙ্গানার সূর্যপেটের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। সূর্যপেটের পুলিশসুপার আর ভাস্করণ জানান, আমার কাছে এখনও পর্যন্ত যা খবর আছে, সন্তোষ বাবুর মরদেহ প্রথমে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখান থেকে কফিনবন্দি দেহ আসবে সূর্যপেটের বাড়িতে। স্ত্রী-সন্তানরাও আসবেন। এখানেই শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
কর্নেলের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করে ট্যুইট করেন তেলঙ্গানার রাজ্যপাল তামিলিসাই সৌন্দরারজন। বলেন, ‘একজন সাহসী সেনা অফিসার গালওয়ান উপত্যকায় চূড়ান্ত ত্যাগ স্বীকার করেছেন।’ শহিদ জওয়ানদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
