হাইলাইটস
- আমি ভীষণ আনরোম্যান্টিক।
- প্রেমের দৃশ্যে খুব কষ্ট করে ভেতর থেকে প্রেম ভাব আনতে হয়।
- সেটের বাকিরা তো আমার এই সব সিনে অভিনয় দেখার জন্য বসে থাকে
সিমরন এখন ভবানীপুর এডুকেশন সোসাইটির ইংরেজি সাহিত্যের স্নাতকোত্তর তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। সেই সঙ্গে ভীষণ ভালো নাচও করেন। কলেজ ফেস্ট থেকে কলেজ স্তরের যে কোনও প্রতিযোগিতায়, প্রথম স্থান তাঁর বাঁধা। ২০০৯-১০ এর ডান্স বাংলা ডান্সের প্রতিযোগী ছিলেন সিমরন। সেখান থেকেই শুরু। বহু বছর ধরে ভারতনাট্যম শিখেছেন। গণেশ আচারিয়া ডান্স অ্যাকাডেমি থেকে তালিম নিয়েছেন। ‘বেস্ট ডান্সারের’ পুরস্কারও রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। ডান্স বাংলা ডান্স থেকেই প্রথম সুযোগ আসে। আর এরপর সিরিয়ালের লম্বা তালিকা। রাগে অনুরাগে, বেদেনি মলুয়ার কথা, কেয়ার করি না, ঠিক যেন লভ স্টোরি, বামা ক্ষ্যাপা, দুগ্গা দুগ্গা, লবঙ্গ, রাঙিয়ে দিয়ে যাও, কি করে তোকে বলবো…আর গত দুবছর ধরে কে আপন কে পরে আপনারা সিমরনকে দেখছেন কোয়েলের ভূমিকাতে।
এছাড়াও স্যুটকেস, ক্লাসরুম, রাজা রানি রাজি সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন সিমরন। কেয়ার করি না- সিরিয়ালে অভিনয়ের জন্য পেয়েছেন স্টার পরিবার জুরি অ্যাওয়ার্ডও। স্কুল কামাই করে শ্যুটিং ছিল তাঁর নপসন্দ। আর তাই স্কুল ছুটির পরই সিমরন পৌঁছে যেতেন সেটে। যদি কোনওদিন বলা হত যে, ‘আজ স্কুল যেতে হবে না, শ্যুটিং শেডিউল দীর্ঘ’-সেদিন তাঁর খুব মন খারাপ হয়ে যেত। এছাড়াও সিমরন খুব শান্ত প্রকৃতির। শ্যুটিং আর বাড়ির বাইরে তিনি ব্যস্ত থাকেন নিজের কাজ নিয়ে। চিত্রনাট্যে এখনও পর্যন্ত সাতজন প্রেমিকের দেখা পেলেও বাস্তব জীবনে একদমই রোম্যান্টিক নন সিমরন। মনের মানুষের দেখা পাননি এখনও (অন্তত আমাদের তেমনটাই জানিয়েছেন)।
পর্দার বাবা-মায়ের সঙ্গে সিমরন
হাসতে হাসতে সিমরন বললেন, ‘আমি ভীষণ আনরোম্যান্টিক। প্রেমের দৃশ্যে খুব কষ্ট করে ভেতর থেকে প্রেম ভাব আনতে হয়। সেটের বাকিরা তো আমার এই সব সিনে অভিনয় দেখার জন্য বসে থাকে। নিজেদের শট না থাকলেও সবাই দেখতে চায়, আমি কী ভাবে উতরোই। আর যদি নাও থাকে টেলিকাস্টের পর আমায় ফোন করে বলে, ভালোই তো প্রেম করলি বাকি সব তোর নাটক’। কে আপন কে পরে- কোয়েলের চরিত্র আসার পর দেখানো হয়েছিল কোয়েল ধূমপান করছে, মদ্যপান করছে। এদিকে সিমরন একেবারে উল্টো। এসব থেকে শতহস্ত দূরে, এমনকী তাঁর সামনে ভুল করেও কেউ সিগরেট ধরান না। ‘আমি তো স্মোকিং নিয়ে সবাইকে জ্ঞান দিই। আর যদি কেউ ধূমপান করেন, তাহলে সিগরেটের টুকরো যাতে এদিক ওদিক না পড়ে থাকে সেদিকেও কড়া নজর আমার’, বললেন এই মিষ্টি মেয়ে।
ডান্স বাংলা ডান্সে মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে ছোট্ট সিমরন
তবে কোয়েল হয়ে উঠতে তাঁকে সবসময় সাহায্য করেছেন পল্লবী শর্মা এবং বিশ্বজিৎ ঘোষ। যাঁরা পর্দায় তাঁর মা-বাবার ভূমিকায় অভিনয় করছেন। সিমরনের কথায় ‘আমি এই সিরিয়ালের মিড-ট্র্যাকে এসেছি। আর তখন এই সিরিয়াল জনপ্রিয়তার তুঙ্গে। আমার জন্য চরিত্রটা তখন খুব চ্যালেঞ্জিং ছিল’। তবে আপাতত ছোটপর্দাতেই মনোনিবেশ করতে চান তিনি।
সাজতে একেবারেই ভালোবাসেন না সিমরন
যেহেতু স্পোর্টস তাঁর খুব পছন্দের, একসময় লন টেনিস খেলতেন ( এখনও চর্চা রয়েছে) আর তাই তিনি স্পোর্টস জার্নালিজম নিয়ে পড়তে চান। কিন্তু করোনার ছোবলে সেই সব পরিকল্পনা এখন চৌপাট, ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষা এখনও হয়নি যে- আক্ষেপ সিমরনের গলায়। তাঁর জন্মদিন, মায়ের জন্মদিন সবই কাটালেন লকডাউনে। সবকিছু স্বাভাবি হলে বন্ধুদের সঙ্গে একদিন জমিয়ে মজা করবেন, তাই সেই আনন্দ আপাতত তুলে রেখেছেন। আর তাঁর অভিনয়ের সবচেয়ে বড় সমালোচক হলেন, সিমরনের মা সুমন উপাধ্যায়। মেয়ে কী কী ভুল করল, কেমন করলে ভালো হত- সবই তিনি নজরে রাখেন। এমনকী বেশি লিপস্টিক লাগিয়ে ফেললেও বকা দিতে ছাড়েন না।
প্রথম থেকেই পরিবারের সম্পূর্ণ সমর্থন রয়েছে, কিন্তু শ্যুটিং-ক্যামেরা-অ্যাকশনে তাঁরই অনীহা ছিল। তবে এখন অভিনয়কে ভালোবেসে ফেলেছেন, মন দিয়ে করে যেতে চান। আর নিজেও দেখতে চান, শেষপর্যন্ত পর্দায় তাঁর স্বামী কে হবে! বিষান নন্দীর স্ত্রী হয়েই থাকবেন নাকি সূর্যর সঙ্গে তাঁর আবার বিয়ে হবে- সেই প্রতীক্ষায় রয়েছেন ‘মিষ্টি মেয়ে’ সিমরন।
এই সময় ডিজিটালের বিনোদন সংক্রান্ত সব আপডেট এখন টেলিগ্রামে। সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন এখানে।
