—কিন্তু ভয় ধরানো এই সংখ্যাতত্ত্বের মাঝেও সুস্থতার হার এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার পরিসংখ্যানে আশার আলো দেখছে স্বাস্থ্য মন্ত্রক। তথ্য বলছে, দেশে সুস্থ হয়ে ওঠা করোনা রোগীর সংখ্যা ১০,২০,৫৮২, অর্থাৎ মোট আক্রান্তের ৬৪.৪ শতাংশ এখন সুস্থ।
—আর সুস্থতার নিরিখে ১০ লক্ষের এই গণ্ডি টপকাতে সময় লেগেছে মাত্র ১৫০ দিন। অর্থাৎ, পাঁচ মাসের মধ্যে করোনাযুদ্ধে জয়ী হয়ে ফিরে এসেছেন ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষ! আর সেই সঙ্গে করোনায় মৃত্যুর হার ৩.৩ শতাংশ থেকে এক ধাক্কায় কমে হয়েছে ২.২১ শতাংশ।
—সুস্থ হয়ে ওঠার হারে অবশ্য কেন্দ্রের মাত্রাকে ছাপিয়ে গিয়েছে রাজ্য। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, রাজ্যের মোট ৬৭,৬৯২ আক্রান্তের (গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ২,৪৩৪ জন) মধ্যে ইতিমধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৪৬,২৫৬। অর্থাৎ, রাজ্যের করোনা আক্রান্তের ৬৮.৩৩ শতাংশই এখন সুস্থ। যে মৃত্যুর হার নিয়ে একাধিকবার কেন্দ্রের কাঠগড়ায় উঠতে হয়েছে রাজ্যকে, সেই গড়েও কেন্দ্রের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে বাংলা।
—গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে একদিনে সর্বোচ্চ ৪৬ জনের মৃত্যু হলেও, আক্রান্তের নিরিখে মৃতের হার ২.২৬ শতাংশ। স্বাস্থ্য অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘৪৬ জনের মৃত্যু অবশ্যই দুর্ভাগ্যজনক, কিন্তু আক্রান্তের নিরিখে মৃতের এই সংখ্যার বিচার করলে দেখা যাবে ১০০ জন আক্রান্তের মধ্যে ২ জনেরও মৃত্যু হয়নি। তবে একই সঙ্গে বলতে চাইব, আমাদের চেষ্টা থাকবে মৃত্যুর হার এক শতাংশের কমে নামিয়ে আনা।’
—সংক্রামিতের সংখ্যা বৃদ্ধির মাঝেও স্বাস্থ্য মন্ত্রকের আশার বার্তা যে নেহাত স্তোকবাক্য নয়, তা বুঝিয়ে দিচ্ছে গত কয়েক মাসের পরিসংখ্যানই। প্রথম আড়াই লক্ষ করোনা রোগী সুস্থ হতে যেখানে সময় লেগেছে ১১৪ দিন, সেখানে পরের আড়াই লক্ষ সুস্থ হয়েছেন মাত্র ১৭ দিনে, তার পরের আড়াই লক্ষ ১১ দিনে এবং শেষ ভাগে আড়াই লক্ষ মানুষের সুস্থ হতে সময় লেগেছে মাত্র আট দিন! স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দাবি, ভারতে সুস্থতার হার (৬৪.৪ শতাংশ) টপকে গিয়েছে বিশ্বের করোনা সুস্থতার গড়কে (৬১.৯ শতাংশ)।
